শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ড্রাম বা বোতলে তেল না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কয়েকজন কৃষক নিজেদের সেচ পাম্পের পুরো মেশিন খুলে মাথায় করে ফিলিং স্টেশনে হাজির হয়েছেন—যা একদিকে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনি প্রশ্ন তুলেছে তেল সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক মাথায় করে ভারী সেচ মেশিন বহন করে পাম্পে তেল নিতে এসেছেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টিকে কৃষকদের অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—এটি তথ্যের অভাব ও ভুল ধারণার ফল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে নড়িয়া উপজেলার ‘মেসার্স চোকদার ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নিতে আসেন কয়েকজন কৃষক। কিন্তু ড্রাম বা বোতলে তেল দেওয়া হবে না—এমন ধারণা থেকেই তারা সেচ পাম্প মেশিন খুলে সরাসরি পাম্পে নিয়ে আসেন, যেন মেশিনে সরাসরি তেল ভরানো যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষকদের এমন কাণ্ড দেখে প্রথমে সবাই হতবাক হয়ে যান। পরে বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়।
ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, সরকারিভাবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তেল বিক্রি করা হয়। অনেকেই মনে করেন, ড্রাম বা বোতলে তেল দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তবে বাস্তবে কৃষি কাজের জন্য অনুমোদিত কাগজপত্র থাকলে ড্রামেও তেল নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের পরিচালনাকারী আব্দুল জব্বার বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলে তেল দেওয়া হয় না—এমন একটি ভুল ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে অনুমোদন থাকলে চাহিদাপত্র দেখিয়ে ড্রামেও তেল নেওয়া যায়। যারা পাম্প মেশিন নিয়ে এসেছিল, তারা সম্ভবত বিষয়টি জানতেন না।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকই দ্রুত তেল সংগ্রহ করতে চান। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং কখনো কখনো এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি গ্রামীণ পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহের ঘাটতি এবং কৃষকদের বাস্তব সমস্যার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকদের জন্য তেল সরবরাহের নিয়ম ও প্রক্রিয়া আরও সহজ ও পরিষ্কারভাবে জানানো গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ এটি হাস্যরসের বিষয় হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এটিকে কৃষকদের কষ্ট ও বাস্তবতার নির্মম চিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









