কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পুরাতন ভেদামারি এলাকায় নেংটার শাখা খালের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ বছর ধরে আংশিক বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে পুরাতন ভেদামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশ কোমলমতি শিক্ষার্থী। ব্রিজের মাঝখানের অংশ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বাঁশের মাচা দিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। যাতায়াতের সময় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেনিয়া ও ঈশান জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের খুব ভয় লাগে। ব্রিজ পার হতে গিয়ে অনেকেই নিচে পড়ে গিয়ে হাত-পা কেটে ফেলেছে। অভিভাবকরাও সবসময় আতঙ্কে থাকেন কখন কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
এই অঞ্চলের প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমির ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজটি। ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় কৃষকরা মাঠে পাওয়ার টিলার বা অন্য কোনো যানবাহন নিয়ে যেতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষক কাবিল ও মো. মজনু আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ব্রিজের কারণে আমাদের ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে হাটে যেতে হয়। এতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আমরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।’’
পুরাতন ভেদামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, ব্রিজটি দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এই অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আমাদের শিশুদের এবং গ্রামবাসীর যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে অতি দ্রুত এই স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’’
স্থানীয় দোকানদার মো. ফজলুর রহমান জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় তিনি নিজেই বেশ কয়েকবার শিশুদের নিচে পড়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও এখন পর্যন্ত ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন কুর্শা ইউনিয়নবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









