গাজীপুরের শ্রীপুরের বাঁশবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও স্কুলে তালা দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৬ নেতাকর্মীকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে উপজেলা বিএনপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বহিষ্কার আদেশটি প্রকাশ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ।
উপজেলা বিএনপি সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়াও কয়েকটি গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হলে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের নজরে আসে।
এরপর স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপজেলা বিএনপিকে তদন্ত কমিটি করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০ তারিখে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই ৬ জন নেতাকে আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ এপ্রিল বাঁশবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বিদায় অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটান এবং শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। উক্ত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আ. মান্নান মাস্টার, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মো. হাসমত আলী হাসু, সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম ও সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে শাস্তি পাওয়া কারো সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল (আজাদ) বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের আলোকে দলীয় গঠনতন্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব বলেন, “কোনো অপরাধী দলের পরিচয় বহন করতে পারে না। আমরা করতে দেবো না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যতো বড় নেতাই হোক না কেনো অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুনেছি। দলীয় লোকজনের বিষয় তাই দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। আমরাও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









