চব্বিশের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা।’’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।’’
এ সময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘‘দুই বছরেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা যেমন অপরাধী, তেমনি যারা বাস্তবায়ন করেছে তারাও অপরাধী। সকলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’’
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে তিনিই প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিতি পান।
এদিকে, শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে পেকুয়ার দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার মা জোছনা বেগমের সঙ্গে। ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে তার। ঘরের এক কোণে যত্ন করে রাখা ওয়াসিমের পাওয়া ক্রেস্ট, বিভিন্ন সম্মাননা, উপহার ও ছবিগুলো বারবার স্পর্শ করেন তিনি। কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জোছনা বেগম বলেন, ‘‘ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছিল।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কবরের পাশে গেলে আর ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, আমার ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









