জ্বালানি তেলের সংকটের মাঝে শুরু হয়েছে ভোজ্য তেল নিয়ে কারসাজি। সিলেটের বাজারে হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।বেশি সংকট পাঁচ ও দুই লিটার বোতলের। অনেক ডিলার অর্ডার কেটেও চাহিদামাফিক তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫-২০ দিন ধরে বোতলজাত তেলের এমন সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সুবিধাভোগী কতিপয় মুনাফাখোর বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। বাজারে সংকট দেখিয়ে মূলত তারা তেলের দাম বৃদ্ধি করতে চাইছে।
সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আবিদুর রহমান একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। শনিবার মদিনা মার্কেট এলাকার একটি সুপার শপে সাপ্তাহের বাজার করতে এসে তিনি প্রতিবেদককে জানান, ‘‘গত ২ সাপ্তাহ দিন যাবৎ তীর, রূপচাঁদাসহ কোনো কোম্পানির ২ বা ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ক্যানোলা তেল পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম অনেক বেশি। এই শপে তেলে মিললেও চাহিদা মতো কিনতে পারছেন না।’’
কুমাগাঁওয়ের বাসিন্দা চাকরিজীবী আলতাফ হোসেন জানান, ‘‘গত ১০-১২দিন ধরে তিনি এক, দুই বা পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল পাচ্ছেন না। এক বোতল তেল খুঁজতে কয়েক দোকানে ঘুরেও নিরাশ হন।’’
আম্বরখানা এলাকা থেকে দুই লিটারের ফ্রেশ সয়াবিন তেল কিনেছেন রাজিব আহমদ। তিনি জানালেন,‘‘বোতলে দাম লেখা আছে ৩৯০ টাকা কিন্তু দোকানি নিয়েছে ৪০০ টাকা। তা ছাড়া সব দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’’
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কার্নিভাল কোম্পানিতে চাকরি করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘তার পাড়ার দোকান গত ১ সাপ্তাহ ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৩-৪টি দোকান খুঁজলে একটিতে মিলছে। তাও দাম বেশি চাচ্ছে।’’
এদিকে, বাজারে বোতলজাত ভোজ্য তেলের সরবরাহ অন্তত ৭০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কালিঘাট এলাকার ডিলারেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, ‘‘অর্ডার দেওয়া থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বড় তেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে আগ্রহী হলেও সরকার তাতে সম্মতি না দেওয়ায় তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।’’
অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ‘‘খুচরা পর্যায়ে অধিকাংশ দোকান থেকে উধাও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কয়েকটি দোকান ঘুরে পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। খোলা তেল কিনতে হলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।’’
সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন সরকার নির্ধারিত ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৫৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও এক লিটার ১৯৫ টাকা। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত এই দামে বাজারে তেল মিলছে না। ২০ দিন ধরে এরকম অবস্থা বিরাজ করছে বাজারে।
বিক্রয়কর্মী করিম আহমদ বলেন, ‘‘বাজারে এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল সংকট। আমরা খুব কম তেল পাচ্ছি; যা পাচ্ছি তা দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।’’
আম্বরখানা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ‘‘কোম্পানির লোক এ সাপ্তাহ ধরে আসছে না। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, দাম না বাড়লে তারা তেল ছাড়বে না। এই কৃত্রিম সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়েছে।’’
এদিকে, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের হাহাকার বাড়ছে। বেশি সংকট পাঁচ ও দুই লিটার বোতলের। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ক্রেতাই খোলা তেল কিনছেন। তবে খোলা তেলেও স্বস্তি মিলছেনা, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









