কালনী নদী। এপাড়ে সুনামগঞ্জ ওপাড়ে হবিগঞ্জ। এই দুই জেলা দিয়েই কালনী নদী প্রবাহমান। দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনে নদীপাড়ের শতশত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। এখনো ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় আশেপাশের গ্রামগুলো বিলীন হওয়ার পথে। এর মধ্যেই আবার নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
জলসুখা ও শাল্লা সড়কের উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের নামে লুট হচ্ছে কালনী নদীর বালু। প্রতিদিন তোলা হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। আর এসব বালু উত্তোলনের পেছনে রয়েছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের স্বাক্ষরিত একটি অনুমোদনের কপি দেখিয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সীমান্তবর্তী জায়গা থেকে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে শাল্লা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
শাল্লা গ্রামের লুৎফুর রহমান জানান, ঠিকাদার হাবিব হবিগঞ্জের একটি কাগজ দেখিয়ে আমাদের সুনামগঞ্জের এড়িয়া থেকে বালু উত্তোলন করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোক ভয়ভীতি দেখায়।
বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বালু তোলা হচ্ছে।
তবে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন বলছে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কালনী নদীর শঙ্কমহল এলাকায় ২৮১৮ দাগে অনুমোদিত রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দওেয়া হয়নি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর(সওজ) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই উপজেলার সাথে সড়ক সংযোগ এবং জেলাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সেই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি পায় জন্মভূমি ও জন জেবি নামে দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বালু ভরাটের কাজ পায় কিশোরগঞ্জের আরসিএন (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের নামে বিআইডব্লিওটিএর সুপারিশক্রমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বালু উত্তোলনের অনুমতি দেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরসিএন’র (জেভি) স্বত্ত্বাধীকারী হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য আমি লিগ্যালভাবে বিআইডব্লিওটিএ’র অনুমতি সাপেক্ষে কালনী নদী থেকে বালু উত্তোলন করছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম জানান, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় কালনী নদী থেকে বালু উত্তোলণের জন্য জেলা থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের এড়িয়াতে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম সরফরাজ বলেন, “শাল্লা উপজেলার সীমানা থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এরপরও এই বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ ইউএনও’র সাথে কথা বলছি বলে তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









