টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নামছে নিকলী হাওর ও নদীগুলোতে। এতে নিকলী ঘোড়াউত্রা নদী, সৌয়াইজনী নদীর পানি বেড়েছে ২ থেকে ৩ ফুট। ফলে বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।
উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে চোখের সামনে সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। একদিকে প্রকৃতির বৈরী আচরণ, অন্যদিকে শ্রমিক ও নৌকা সংকটে ধান ঘরে তোলা এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নিকলীতে মোট ১৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৪০০ একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় বাকি জমিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
শ্রমিক সংকট ও আকাশচুম্বী মজুরি মাঠে ধান পেকে থাকলেও তা কাটার জন্য মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। সংকটের সুযোগ নিয়ে বহিরাগত ও স্থানীয় শ্রমিকরা কয়েকগুণ বেশি মজুরি দাবি করছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। এছাড়া কাটা ধান হাওর থেকে বাড়ির আঙিনায় আনার জন্য তীব্র নৌকা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাড়তি নৌকা ভাড়ায় লোকসানের পাল্লা আরও ভারি হচ্ছে।
অচল পড়ে আছে সরকারি হারভেস্টার
সরকারিভাবে কৃষকদের সহায়তার জন্য ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫২টি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ১২টি হারভেস্টার মেশিন অচল পড়ে থাকায় এই সংকটকালীন সময়ে সেগুলো কৃষকের কোনো কাজে আসছে না। যেগুলো সচল আছে সেগুলোও পানি বেড়ে যাওয়ায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিকই এখন একমাত্র ভরসা।
তীব্র অনিশ্চয়তার মাঝেও যেটুকু ফসল অবশিষ্ট আছে, তা শেষ সম্বল হিসেবে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাওরপাড়ের সংগ্রামী মানুষগুলো।
স্থানীয় কৃষক কামাল মিয়া বলেন, “হাওরের ধান আমাদের সারা বছরের খোরাক। কিন্তু এখন নৌকা পাচ্ছি না, শ্রমিকের দামও বেশি। যদি বৃষ্টি না থামে তবে আমাদের পথে বসতে হবে।”
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছি এবং যে জমিতে ধান ৮০ ভাগ পাকা রয়েছে সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করছি। কৃষকরা দিনে-রাতে কাজ করে হাওর থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









