পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। এতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কমিশনার খলিল আহমেদ এবং বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠক চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ডিনদেরও জরুরি ভিত্তিতে যুক্ত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলাম।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে বৈঠক থেকে বেরিয়ে উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী সব দাবি বিবেচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রুত ক্লাসে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে শিক্ষকরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, বৈঠকে আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন অনেকটাই ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। খুব দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও পৃথকভাবে বোর্ড গঠন করা হবে। একই সঙ্গে ক্লাস ও পরীক্ষা দ্রুত শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বন্ধ থাকা ক্লাস ও পরীক্ষা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে শিগগিরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের একটি কার্যকর পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম কবে নাগাদ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









