কর্মস্থলে যাওয়া হলো না স্বামী-স্ত্রীর। পথে দুর্ঘটনায় হাফিজা বেগম (২৮) আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে স্থান হলেও প্রাণ হারালেন স্বামী বদরুজ্জামান (৪৫)। তার স্বামী আর বেঁচে নেই এখনো জানেন না হাফিজা।
রবিবার (৩ মে) সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের তেলিবাজার এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হন।
নিহদের মধ্যে আছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী হাফিজা বেগম এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
হাফিজা বেগম এদিনকে জানান, প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে গ্রাম থেকে শহরে চলে আসেন। তারা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনার বর্ণনায় দিতে গিয়ে তিনি জানান, পিকআপে করে তিনিসহ বেশ কয়েকজন কাজে যাচ্ছিলেন। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। এরপর আর কিছু মনে নেই। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তিনি চিকিৎসাধীন।
দুপুরের দিকে হাসাপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, মায়ের শয্যা পাশে বসে আছে তার চার সন্তান। বাবাকে হারিয়ে তারা নির্বাক। কোনো কথাই বলতে চাচ্ছেন তারা।
নিহত বদরুজ্জামানের চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ বলেন, ‘‘বদরুজ্জামান চার শিশুসন্তান রেখে গেছে। তিন ছেলে, এক মেয়ে। এখন বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।’’
নিহত দুই ভাই
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২) রয়েছেন। তারা সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় থাকেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহত দুই ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন খালাতো ভাই শামীম আহমদ।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও নিহত ব্যক্তিদের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে আসেন। পরে মরদেহ দেখে দুই ভাইকে শনাক্ত করেন। একসঙ্গে দুই ভাইকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।
পুলিশের চোখে বিভীষিকাময় মুহূর্ত
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পুলিশ সদস্য রণজিৎ তালুকদার। তিনি জানান, চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য জীবনে খুব কমই দেখেছেন তিনি।
রণজিৎ তালুকদার জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের প্রটোকল ডিউটিতে ছিলেন। পথে তেলিবাজারের মারকাজ পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাক শ্রমিকবাহী একটি পিকআপের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গেই পিকআপে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দুইজন নারীও ছিলেন। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন এবং সুরমা থানাকে বিষয়টি জানান। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









