ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রতিবেশীর মেয়ের জামাইবাড়িতে মোটরসাইকেল নিতে এসে এক যুবক ‘পরিকল্পিত’ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের সারোয়ার শেখের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দিঘা ইউনিয়নের সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা শাহিদুল মোল্লা শহিদের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা ময়না ইউনিয়নের হাটখোলার চর গ্রামের হানিফ শেখের ছেলে সহিদুল শেখের সাথে। তারা পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন শহিদের মেয়ে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের আগে সহিদুল শেখ তার শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল এনে অন্যত্র বন্ধক রাখে। এদিকে তাদের বনিবনা না হওয়ায় মোটরসাইকেলটি ফেরত চান মেয়ের বাবা। মঙ্গলবার দুপুরে সেই মোটরসাইকেল নিতে জামাই বাড়িতে আসে শহিদ মোল্লা ও তার প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে সহিদুলের পরিবারের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রবিউল। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল না নিয়েই ফিরে যান তারা। পরে তাদের ফোন করে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরে বাবু নামের এক স্থানীয় গ্রাম্য মাতুব্বর শহিদ মোল্লাকে বসিয়ে রেখে কৌশলে রবিউলকে ডেকে নিয়ে যান সহিদুল শেখ। দীর্ঘ সময় শহিদ মোল্লাকে বসিয়ে রাখেন বাবু শেখ। পরে সন্ধ্যার দিকে সহিদুল ফোন করে মোটরসােকেল পরেরদিন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে জানিয়ে শশুরকে চলে যেতে বলেন। এ সময় রবিউলকে ফোন করে সাড়া না পেয়ে শহিদ মোল্লা বাড়িতে চলে যান।
এদিকে সন্ধ্যার পরে বোয়ালমারীর সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের হাটখোলার চর বটতলা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা পরলে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে নিহত ব্যক্তির পকেটে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে নিহতের স্বজনদের খবর জানানো হয়। এ সময় স্থানীয়দের ধারণা সড়ক দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ যুবকের মধ্যে তিনজন ভয়ে পালিয়ে যায় এবং শাহাজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেন।
নিহতের চাচা জিল্লুর রহমান বলেন, “দুপুর একটার দিকে শহিদ মোল্লা আমার ভাতিজাকে নিয়ে তার জামাই বাড়িতে আসে। আমরা রাত ৮টার পরে জানতে পারি আমার ভাতিজা খুন হয়েছে। এটা পরিকল্পিত খুন বলে ধারণা করছি।”
নিহত রবিউলের বাবা গোলাম সরোয়ার বলেন, “শহিদ মোল্লা আমার ছেলেকে তার বিয়াই বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে তাকে হত্যা করা হয়। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।”
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, “নিহতের শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাইভেটকারটি ওখানে কীভাবে এসে পড়লো? কাকতালীয়ভাবে প্রাইভেটকারে থাকা কেউ আহত হলো না। তদন্ত করে মূল ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









