হলিউড মানেই নিখুঁত সৌন্দর্যের এক ঝলমলে দুনিয়া, এমন ধারণা বহুদিনের। ম্যাগাজিনের চকচকে কভার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো তৈরি করে অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারকারাও আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। তাদের শরীরেও রয়েছে ভিন্নতা, অসম্পূর্ণতা, আর সেই ভিন্নতাই অনেক সময় হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এমনই কিছু ব্যতিক্রমী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত ১০ তারকাকে নিয়ে আজকের আয়োজন।
১. হ্যারি স্টাইলস — চারটি নিপল

ব্রিটিশ এই গায়কের ব্যক্তিত্বের মতোই তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যও কিছুটা ব্যতিক্রমী। ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেন যে তার চারটি নিপল রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘সুপারনিউমেরারি নিপল’। ভ্রূণ অবস্থায় কোষের অস্বাভাবিক বিকাশের কারণে এটি হতে পারে। তবে এতে তার ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিত্বে কোনো প্রভাব পড়েনি।
২. এলিজাবেথ টেইলর — বেগুনি আভাযুক্ত চোখ ও অতিরিক্ত পাপড়ি

হলিউডের কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী জন্মেছিলেন ডাবল আইল্যাশ বা অতিরিক্ত পাপড়ি নিয়ে। এছাড়া তার চোখে ছিল নীলচে-বেগুনি আভা। FOXC2 জিনের মিউটেশনের কারণে ‘ডিস্টিকিয়াসিস’ নামের এই অবস্থা তৈরি হয়, যা কখনো কখনো চোখে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
৩. দানেলা রুয়াহ — ভিন্ন রঙের চোখ

এই অভিনেত্রীর ডান চোখের সাদা অংশ জুড়ে রয়েছে ‘নেভাস অব ওটা’ নামের একটি জন্মদাগ, যার কারণে তার দুই চোখের রঙ আলাদা দেখায়। তবে এটি তার দৃষ্টিশক্তি বা ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
৪. উইনি হার্লো — ভিটিলিগো

ত্বকের রঙের বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত এই মডেল ‘ভিটিলিগো’ রোগে আক্রান্ত। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রঞ্জক কোষ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, সৌন্দর্য দেখার চোখে আর ভিন্নতাই প্রকৃত সৌন্দর্য।
৫. সিল — মুখের দাগ

এই ব্রিটিশ গায়কের মুখের দাগ অনেকের কৌতূহলের কারণ। ‘ডিসকয়েড লুপাস ইরিথেমাটোসাস’ নামের এক ধরনের চর্মরোগের কারণে তার মুখে এসব স্থায়ী দাগ তৈরি হয়েছে। তবুও তিনি তার সংগীতজীবনে সফল।
৬. গ্যাটেন মাতারাজ্জো — বিরল হাড়ের রোগ

জনপ্রিয় সিরিজ ''স্ট্রেঞ্জার থিংসের'' এই অভিনেতা ‘ক্লেইডোক্রেনিয়াল ডিসপ্লাসিয়া’ নামের এক জেনেটিক রোগে ভুগছেন। এতে তার অতিরিক্ত দাত রয়েছে এবং কলারবোন সম্পূর্ণ গঠিত হয়নি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করেন।
৭. ক্যামারোন দিয়াজ — রোসেসিয়া

এই অভিনেত্রীর ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা লালচে দেখায়। ‘রোসেসিয়া’ নামের একটি ত্বকের সমস্যার কারণে এমনটি হয়। এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
৮. Georgia May Jagger — দাঁতের ফাঁক

খ্যাতনামা গায়ক মিক জেগারের কন্যা এই মডেলের দাঁতের মাঝখানে স্বাভাবিক ফাঁক রয়েছে, যা ‘ডায়াস্টেমা’ নামে পরিচিত। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে মডেলিং দুনিয়ায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
৯. জ্যাকুইন ফোনিক্স — ঠোঁটের দাগ

এই অস্কারজয়ী অভিনেতার ওপরের ঠোঁটে একটি দাগ রয়েছে, যা আসলে ‘মাইক্রোফর্ম ক্লেফট’। এটি জন্মগত একটি অবস্থা, যেখানে ঠোঁট পুরোপুরি গঠিত হয় না।
১০. এন্ডি গার্সিয়া — জন্মের সময় সংযুক্ত যমজ

এই অভিনেতা জন্মেছিলেন একটি অপরিণত সংযুক্ত যমজসহ, যা তার কাঁধে যুক্ত ছিল। জন্মের পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। যদিও এখন তার শরীরে এর দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন নেই, তবে ঘটনাটি তার জীবনের এক অনন্য অংশ।
শেষকথা
নিখুঁত হওয়ার চেয়ে আলাদা হওয়াই আসল সৌন্দর্য। এমন বার্তাই দিচ্ছেন এই তারকারা। তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে, ভিন্নতাই মানুষকে করে তোলে অনন্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









