শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

সারিয়াকান্দিতে সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্য

প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

আপডেট: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

সারিয়াকান্দিতে সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্য

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একশ্রেণির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা নীতিমালায় শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, জেল-জরিমানা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে কতিপয় শিক্ষক সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে এই বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত ও শ্রেণিকক্ষমুখী করার নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে এই শিক্ষকের এমন ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সারিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে ফি আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া এবং ক্লাসে নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, স্কুলে শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করেন না বলেই বাধ্য হয়ে তাদের প্রাইভেটমুখী হতে হচ্ছে। এছাড়া কোচিংয়ে না পড়লে পরীক্ষার প্রশ্ন দাগিয়ে না দেওয়া এবং ক্লাসে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে আমিনুর রহমান তার আগের কর্মস্থল দিঘলকান্দি স্কুলেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা যায়।

শুধু সারিয়াকান্দি মডেল স্কুলই নয়, বড়ইকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কড়িতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, “আমি একা নই, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষকই প্রাইভেট পড়ান। আমার স্কুলের আরও দুই শিক্ষকও পড়াচ্ছেন, তাদের বিষয়ে কেউ কিছু বলছে না।”

এদিকে স্কুলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম জনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা দেরিতে স্কুলে আসেন এবং ডিজিটাল ডিভাইস চালু করে দিয়ে বা দায়সারা কাজ দিয়ে সময় পার করেন। সহকারী শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তার দাবি।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম বলেন, “স্কুল সময়ের বাইরে কোনো শিক্ষকের তথ্য আমার জানা নাই। আপনার কাছে জানলাম, আমি ওই শিক্ষককে এ বিষয়ে অবহিত করবো এবং পরামর্শ দিব তিনি যেন নিজ থেকে সংশোধন হয়।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. মাহতাবুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক, সেখানে এমন সুযোগ নাই। তারপরও আমি এ বিষয়ে আইন দেখে জানাতে পারবো।”

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন বলেন, “আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনি পড়াবে, এখানে প্রাইভেট পড়ানোর কোনো সুযোগ নাই। যদি কেউ এমন কাজে জড়িত থাকে খুব তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সারিয়াকান্দির সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং সরকারের পাইলট প্রকল্পগুলো সফল করতে প্রাইভেট বাণিজ্যের এই ‘মহাউৎসব’ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

রা/সা/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.