স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়ে সেই স্বপ্নের পথে একধাপ এগিয়েও গিয়েছিল কিশোরটি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ হাসপাতালের সাদা বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের তুখোড় মেধাবী সন্তান অন্তর শেখ (১৯)।
কনকর্ড ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মলিকুলার ল্যাবের ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের রিপোর্ট অনুযায়ী, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি রক্ত ক্যানসার (Early T-cell Precursor Acute Lymphoblastic Leukemia)。 বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
"বাবা, আমি কি আর কলেজে যেতে পারব না?"
অন্তর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের সাধারণ কৃষক ভুলু মিয়া শেখের সন্তান। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে টেনেটুনে চলত সংসার। ছেলের রেজাল্টে খুশিতে বুক ভরে উঠেছিল বাবার, ভেবেছিলেন বড় হয়ে ছেলে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু ক্যানসারের খবরে এখন দিশেহারা তিনি। অন্তরের বাবা ভুলু মিয়া শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলেটা কুশলী ইউনিয়নের সম্পদ। ও বারবার জিজ্ঞেস করে— 'বাবা, আমি কি আর কলেজে যেতে পারব না?' আমি ওর চোখের দিকে তাকাতে পারি না। একজন গরিব কৃষক হয়ে চিকিৎসার এই বিপুল টাকা আমি কোথায় পাব? আপনাদের একটু সাহায্য হয়তো আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারে"।
চরকুশলি ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. বিল্লাল সিকদার বলেন, "অন্তর আমাদের এলাকার রত্ন। এমন মেধাবী একটা ছেলে আজ টাকার অভাবে ধুঁকছে, এটা ভাবলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। ওর বাবা সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছেন, কিন্তু এই বিশাল খরচ একা সামলানো অসম্ভব। আমি সমাজের বিত্তবানদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি—আসুন, আমরা সবাই মিলে এই প্রদীপটিকে নিভে যেতে না দিই"।
কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেলায়েত হোসেন সরদার বলেন, "অন্তর আমাদের ইউনিয়নের গর্ব। ওর জীবন বাঁচাতে অনেক বড় অংকের টাকার প্রয়োজন। হৃদয়বান মানুষের সামান্য সহযোগিতা হয়তো একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রাণ বাঁচিয়ে দিতে পারে"।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, "অন্তর মিয়ার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ক্যানসার রোগীদের জন্য যে এককালীন আর্থিক সহায়তার অনুদান রয়েছে, আমরা তাকে সেই আওতায় আনার দ্রুত ব্যবস্থা করছি। তবে তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা সরকারি বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি। তাই সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের দানশীল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই"।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাফরুহা আক্তারের তত্ত্বাবধানে অন্তরের চিকিৎসা চলছে。 চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্যানসারের এই ধরনটি অত্যন্ত জটিল এবং এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল।
অন্তর আবার সেই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে চায়, ফিরতে চায় মায়ের কোলে। একটি জীবন বাঁচাতে আপনার সামান্য মমতা হতে পারে এই অসহায় পরিবারের বড় ভরসা।
আসুন, মানবতার টানে আমরা মেধাবী অন্তরের পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সাহায্যই পারে একটি জীবন বাঁচাতে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









