গাজীপুরের পূবাইল থানার মেঘডুবী এলাকায় মুদি দোকানি কুলসুম আক্তার (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটকরা হলেন, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার রফিকুল ইসলামের ছেলে কামরুজ্জামান (৩৫), বাদশা মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০) ও আফজাল হোসেন (৩৩)। তারা সবাই মেঘডুবী কড়ইটেক এলাকার এ ওয়ান পলিমার কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ভিকটিমের বাসার পাশেই কাজল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন কুলসুম আক্তার। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর জেলা পিবিআই। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক মাসের আগেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, আটক তিনজন নিয়মিত কুলসুমের দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করতেন। বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে কুলসুমের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরেই তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২৫ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা কুলসুমকে জানায়, তারা তার বাসায় বান্ধবী নিয়ে কিছু সময় কাটাতে চায়। কুলসুম তাদের পরদিন দুপুরে আসতে বলেন।
পরদিন ২৬ এপ্রিল দুপুরে কামরুজ্জামান বিভিন্ন ধরনের ফল ও এনার্জি ড্রিংকস নিয়ে কুলসুমের বাসায় যায়। পরে এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কুলসুমকে খাওয়ানো হয়। কুলসুম অচেতন হয়ে পড়লে ঘরে থাকা একটি ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ঘর থেকে নগদ ৩ হাজার ২৫০ টাকা, শিশুদের হাতের চুড়ি, টিকলি ও গলার চেইন নিয়ে রংপুরে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারে সেগুলো আসল স্বর্ণ নয়, সিটি গোল্ড।
পিবিআই জানায়, আটক তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ৩ জন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মামলা ডিপিবি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে পিবিআই’র হেফাজতে রয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









