চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজজেলায় গরুর ভাইরাসজনিত ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রোগটির সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামার ব্যবসায়ীরা।
প্রাণিসম্পদ বলছে, রোগটিতে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্ত গরুর দুধ উৎপাদন হঠাৎ কমে যায়, চামড়ার মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং পশু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কোরবানির পশুর বাজার, দুগ্ধ উৎপাদন ও চামড়া শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা ও মাছির মাধ্যমে ভাইরাসজনিত এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, তার একটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। অনেক টাকা ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত গরুটি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “ডাক্তাররা বলেছেন এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গরুটি মারা যায়।”
সুজাতপুর গ্রামের খামারি জসিম উদ্দিন বলেন, “তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে সাত থেকে আটটি গরু রয়েছে। চারদিকে যেভাবে রোগ ছড়াচ্ছে, তাতে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে গরু প্রস্তুত করেছি। এখন যদি খামারে রোগ ঢুকে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, “গরুর লাম্পি স্কিন রোগের নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন সরকারিভাবে সরবরাহ নেই। তাই সচেতনতা ও পরিচর্যাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ ব্যবস্থা।”
তিনি জানান, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে এবং খামারের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার ও আক্রান্ত গরুকে মশারির ভেতরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
শ্যামল চন্দ্র দাস আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিপাইরেটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। গুটি বা ক্ষত ফেটে গেলে সেখানে পভিসেপ বা ভায়োডিন দিয়ে ড্রেসিং করে বোরিক বা সালফানিলামাইড পাউডার প্রয়োগ করা যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করাই ভালো।”
তিনি জানান, আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে না খাইয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গরুর খাবার, ব্যবহার্য সামগ্রী বা সংস্পর্শ যেন সুস্থ গরুর কাছে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









