স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার, আর এই সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য, আধুনিক ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী জুন–জুলাইয়ের মধ্যে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সুলভ মূল্যে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।”
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা চালু থাকলেও এর সেবার মান ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও সহজে ও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নার্সিং এখনো সমাজে যথাযথ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই পেশাকে সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ড. জিয়াউদ্দিন উল্লেখ করেন, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নার্সদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তারা বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের মেডিকেল শিক্ষা অনেকাংশেই মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ধারা থেকে বের হয়ে দক্ষতা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।”
সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ ও একীভূত করতে সরকারের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা নিয়মিতভাবে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ডাক্তার ও নার্সের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. এস. এম. খালিদ মাহমুদ শাকিল এবং শেবাচিমের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









