বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি মিলছে না। কোথাও সরবরাহ কম, কোথাও অতিরিক্ত দাম, আবার কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ। তাহলে সংকট নেই কোথায়— সরকারের হিসাবের খাতায়, নাকি মানুষের রান্নাঘরে?
রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি নিয়ে এই সাংঘর্ষিক বাস্তবতা শুধু ভোক্তার দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে; কিন্তু সেই দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের বাস্তবতার যেন কোনো সম্পর্কই নেই। নির্ধারিত মূল্য কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও আবার নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে যখন কোটি মানুষ বোতলজাত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তখন এই অনিয়ম তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি ও ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও যদি ভোক্তাকে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হয়, তাহলে মাঝপথে কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে— তার জবাব সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, পরিবহন, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রয়— পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।
শুধু বৈঠক, নির্দেশনা কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এলপিজি কোনো বিলাসপণ্য নয়; কোটি মানুষের দৈনন্দিন রান্নার প্রয়োজনীয় জ্বালানি। তাই এই বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য কিংবা সরবরাহ নিয়ে অস্পষ্টতার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারের বক্তব্য আর বাজারের বাস্তবতার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা দূর করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
সংকট নেই— এ কথা বলার চেয়ে নির্ধারিত দামে ভোক্তার হাতে এলপিজি পৌঁছে দেওয়াই হবে তার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









