কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো খুব নীরবে আসে। কোনো ঘোষণা থাকে না, বড় কোনো ঘটনা ঘটে না। তবু সেই ছোট ছোট মুহূর্তই আমাদের মনে থেকে যায়, হয়ে ওঠে জীবনের গল্প। বন্ধুত্ব, কৈশোর, ছোট শহরের স্মৃতি আর প্রিয় মানুষকে হারানোর বিষণ্নতা—এসব নিয়েই নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ববি বিউটি পার্লার’।
দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সৃজনশীল সহযাত্রী ইমতিয়াজ আলী ও অনুরাগ কাশ্যপ এবার একসঙ্গে এই চলচ্চিত্রটি উপস্থাপন করছেন। ৬ আগস্ট ‘ওহ শর্ট ফ্লিপস’ ইউটিউব চ্যানেলে চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার হয়েছে।

শাশ্বত দ্বিবেদী পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের গল্প দুই শৈশবের বন্ধু—ইলু ও মনুকে ঘিরে। একসঙ্গে কাটানো তাদের শেষ বিকেল। সেই বিকেলেই তারা আটকে যায় পাড়ার একটি বিউটি পার্লারের ভেতর। সেখানে তারা পান করে, ঘুমায়, ঝগড়া করে এবং মরিয়া হয়ে ধরে রাখতে চায় এমন একটি সময়কে, যা ধীরে ধীরে তাদের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।
প্রযোজক রঞ্জন সিংয়ের সহযোগিতায় এবং অনুরাগ কাশ্যপের তত্ত্বাবধানে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।
দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ইমতিয়াজ আলী ও অনুরাগ কাশ্যপের বন্ধুত্ব। তবে এই প্রকল্পে দুই খ্যাতিমান নির্মাতার একসঙ্গে কাজ করা বেশ বিরল একটি ঘটনা।
ইমতিয়াজ আলী বলেন, জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ মুহূর্তগুলো চিৎকার করে নিজেদের জানান দেয় না; বরং নীরবে আমাদের চরিত্রের অংশ হয়ে থাকে। ‘ববি বিউটি পার্লার’-এর আকর্ষণও সেখানেই। সিনেমাটি তাকে নিজের ছোট শহর, কৈশোরের নানা সিদ্ধান্ত এবং জীবনের সঙ্গে থেকে যাওয়া বন্ধুদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন জাহ্নবী আস্থানা, রঞ্জন সিং ও অনুরাগ কাশ্যপ। জাহ্নবী একই সঙ্গে সিনেমাটির সহলেখক ও চিত্রগ্রাহক। অভিনয় করেছেন আদ্রিজা সিনহা, পারুল রানা, সক্ষম রাজ ও প্রীতি কোচার।

অনুরাগ কাশ্যপ সিনেমাটিকে বলেছেন, ‘সহজ একটি গল্প, সহজভাবে বলা।’ তার কাছে এটি স্বপ্ন, বন্ধুত্ব এবং বড় হয়ে ওঠার গল্প। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন জাহ্নবীর ভূমিকার কথা—তিনি সিনেমাটির প্রযোজক, সহলেখক এবং চিত্রগ্রাহকও। পরিচালক শাশ্বত দ্বিবেদীর সঙ্গে তার দীর্ঘ পরিচয় এবং শাশ্বতের সৃজনশীল বিকাশও তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
রঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে কাশ্যপের সৃজনশীল সম্পর্ক তিন দশকেরও বেশি সময়ের। তার ভাষ্য, ‘ববি বিউটি পার্লার’ ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। বন্ধু, জীবন এবং জীবনের বাস্তবতাকে ঘিরে তৈরি এই উষ্ণ গল্পটি বন্ধুত্ব সপ্তাহে মুক্তির জন্য একেবারেই উপযুক্ত।
পরিচালক শাশ্বত দ্বিবেদী বলেন, শৈশব এমন একটি সময়, যা প্রায়ই আমাদের গল্পে উপেক্ষিত থাকে। অথচ সেই সময়ের বন্ধুত্ব, আনন্দ ও বিচ্ছেদের স্মৃতি মানুষের মনে গভীরভাবে থেকে যায়। তার কাছে আরও আনন্দের বিষয়, তার প্রিয় দুই নির্মাতা—ইমতিয়াজ আলী ও অনুরাগ কাশ্যপ—এই ছবিটি উপস্থাপন করছেন। তাঁদের দুজনের কাজই তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
পরিচালকের আশা, সিনেমাটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আর দেখার পর দর্শকের মনে হয়তো পুরোনো বন্ধুদের কথা মনে পড়বে, ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া সেই বিকেলগুলোর স্মৃতি।
সিনেমাটি দেখতে : ‘ওহ শর্ট ফ্লিপস’ ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









