ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গলাচরণ, পূজার্চনা, প্রার্থনা, শোভাযাত্রা, ধর্মালোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর পূজা, প্রার্থনা ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন বাবর।
প্রধান আলোচক হিসেবে মানিকগঞ্জের রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভূত নন্দলাল গোস্বামী, বিশেষ আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। হযরত ওমর (রা.) এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ আমাদের অন্যায় ও অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। একটি সুন্দর ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে সব ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, প্রশাসনকে সে সুযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাইতে শেখায়। মথুরায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান প্রমাণ করে মূল সৌন্দর্য নিহিত ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতিতে। ধর্ম যার যার, দেশ সবার—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অবতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুষ্টের দমন এবং পুণ্যবানদের রক্ষা করা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, সমাজে ন্যায়, সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়েই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। আজকের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত শিল্পীবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









