লি চ্যাং-দংয়ের সিনেমায় পৃথিবী কখনো মানুষের জন্য সহজ কোনো জায়গা নয়। মানুষ সেখানে হঠাৎ এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়, যার কোনো প্রস্তুতি তার ছিল না। তারপর তাকে নিজের জীবনের অর্থ খুঁজতে হয়—একটি প্রায় অন্ধকার, অস্পষ্ট পৃথিবীর মধ্যে।
‘পোয়েট্রি’-তে মি-জা জানতে পারে, তার ১৬ বছর বয়সী নাতি একটি স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িত।‘সিক্রেট সানশাইন’-এ স্বামীকে হারানো এক নারী নতুন শহরে এসে আবার হারায় তার সন্তানকে। ‘বার্নিং’-এ ব্যক্তিগত জীবনের অনিশ্চয়তার পেছনে দেখা যায় শ্রেণি, অর্থনীতি ও ক্ষমতার অদৃশ্য কাঠামো। আর ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’একজন মানুষের জীবনকে উল্টো দিকে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের ক্ষতগুলোর কাছে—১৯৯০-এর দশকের আইএমএফ সংকট থেকে ১৯৮০ সালের গওয়াংজু অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত দমন পর্যন্ত।

তবু লি চ্যাং-দংয়ের সিনেমা কেবল হতাশার সিনেমা নয়। গভীর অন্ধকারের মধ্যেও কখনো বাতাসে গাছের পাতা কেঁপে ওঠে, সন্ধ্যার আলো এসে পড়ে, নদীর ধারে ফুল ফুটে থাকে। মানুষ তখন তার যন্ত্রণার সঙ্গে বেঁচে থাকার আরেকটি উপায় খোঁজে। কারও কাছে তা ধর্ম, কারও কাছে কবিতা, কারও কাছে কল্পনা।
তার সিনেমা কখনো নিশ্চিত আশার দরজা খুলে শেষ হয় না। বরং জীবন চলতে থাকে। আর সেই চলার মধ্যেই মানুষ খুঁজে পায় খুব সামান্য, কিন্তু মূল্যবান কিছু।
মেট্রোগ্রাফে তার চলচ্চিত্রের রেট্রোস্পেকটিভ উপলক্ষে লেখক ও পরিচালক লি চ্যাং-দংয়ের সঙ্গে ই-মেইলে কথা বলেছেন ফিবি চেন। আলোচনায় এসেছে সিনেমা ও সাহিত্য, আকস্মিকতা, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, ইতিহাস এবং জীবনের অর্থ।
ফিবি চেন: লেখালেখির তুলনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ আপনাকে কী দেয়? কখন বুঝতে পারেন, কোনো গল্প বা চিত্রনাট্য চলচ্চিত্রে পরিণত হওয়া দরকার?
লি চ্যাং-দং: চলচ্চিত্র পর্দায় সময় ও গতিকে দৃশ্যমান করে। দর্শক একই সময়ে সেই সময়ের মধ্য দিয়ে যায় এবং পর্দার গতিকে দেখে। সাহিত্য এমন অভিজ্ঞতা দিতে পারে না; এটি চলচ্চিত্রের নিজস্ব ক্ষমতা।
‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’-র কথাই ধরা যাক। গল্পটি সময়ের উল্টো দিকে এগোয়। এই অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যে একইভাবে তৈরি করা কঠিন। আমার কাছে চলচ্চিত্র নির্মাণ মানে একটি সিনেমাটিক মুহূর্তের অপেক্ষা করা। সেই মুহূর্ত আগে থেকে পুরোপুরি পরিকল্পনা করা যায় না। হঠাৎ তা এসে পড়ে। পেছনে বাতাসে গাছ কেঁপে উঠতে পারে, মেঘের ফাঁক দিয়ে আলো আসতে পারে, কোনো অভিনেতার মুখে খুব সূক্ষ্ম একটি অভিব্যক্তি ফুটে উঠতে পারে। আমি শুটিংয়ের সময় এমন মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করি।

ফিবি চেন: আপনার কোনো কোনো ছবির কাঠামো খুব নির্দিষ্ট, যেমন ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’; আবার ‘সিক্রেট সানশাইন’-এর মতো ছবিতে বর্ণনা অনেক বেশি মুক্ত। গল্পের কাঠামো কীভাবে তৈরি করেন?
লি চ্যাং-দং: প্রায় পুরো কাঠামো ও প্লট চিত্রনাট্যের পর্যায়েই ঠিক হয়ে যায়। সম্পাদনার সময় কিছু পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তা সাধারণত আংশিক। আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো গল্পের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাওয়া। কোনো ঘটনা কেন ঘটবে, তার ভেতরের প্রয়োজন কোথায়—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তারপর আসে আকস্মিকতা। আমাদের জীবন যেমন অসংখ্য আকস্মিকতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, গল্পও তেমন। শুধু কারণ ও ফলাফল যান্ত্রিকভাবে দেখালে একটি চলচ্চিত্র খুব হালকা হয়ে যায়। জীবনে প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি অগণিত আকস্মিকতা থাকে। সিনেমাকেও সেই সত্যটি ধারণ করতে হয়।
ফিবি চেন: কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, আবার লিখতে শুরু করেছেন। সেটি আপনার চলচ্চিত্র নির্মাণকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
লি চ্যাং-দং: সাক্ষাৎকারে ঠিক কী বলেছিলাম মনে নেই। তবে এখনো উপন্যাস লেখা শুরু করিনি। একসময় শুরু করেছিলাম, পরে থেমে গিয়েছিলাম। আবার লিখব—এই ইচ্ছা আছে। হয়তো সেই দিন খুব দূরে নয়। সাহিত্য ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যে আমার কাছে একটি সম্পর্ক আছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার পরও সাহিত্য নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে প্রভাবিত করেছে।
সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি হলো—আমি যা করছি, তার অর্থ কী?

একজন লেখক হিসেবে সব সময় নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি, আমার লেখা পাঠকের কাছে কী অর্থ বহন করবে, আমার কাছেই বা তার অর্থ কী। কিন্তু চলচ্চিত্র অনেক সময় অন্য কিছুর জন্যও তৈরি হয়—বিনোদন, বাণিজ্যিক সাফল্য, দর্শককে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। দর্শক সিনেমা হলে এসে সব সময় অর্থ খুঁজতে আসে না। তাই চলচ্চিত্র বানানোর সময় তার অর্থ নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা কখনো কখনো চলচ্চিত্র নির্মাণকেই কঠিন করে তোলে।
ফিবি চেন: আপনার চরিত্রগুলো এমন এক সমাজে বাস করে, যেখানে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগ সীমিত। তবু তারা অর্থ বা উত্তরের সন্ধান করে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে চরিত্রের স্বাধীনতাকে কীভাবে দেখেন?
লি চ্যাং-দং: আমার চলচ্চিত্রকে বলা যায়, নিজেদের জীবনের অর্থ খুঁজতে থাকা মানুষের গল্প।
তারা দুর্বল। অথচ পরম শক্তির বিরুদ্ধে প্রায় বেপরোয়া, কখনো বোকামিপূর্ণ লড়াই করে। ‘পোয়েট্রি’ ও ‘ওয়েসিস’-এ তারা সমাজের নৈতিক অসাড়তা ও ভণ্ড মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়ছে। ‘বার্নিং’-এ তারা রহস্যময় পৃথিবীর বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ছে। ‘সিক্রেট সানশাইন’-এর নারী তো স্রষ্টার সঙ্গেও লড়তে ভয় পায় না। আর ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’-র প্রধান চরিত্র যেন ছুটে চলা একটি ট্রেন থামানোর চেষ্টা করে—সময় ও অর্থহীনতার বিরুদ্ধে। এই লড়াইটিই তাদের পরিচয়। এটাই তাদের স্বাধীনতা।
ফিবি চেন: অভিনেতাদের সঙ্গে চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে আপনার পদ্ধতি কী? কখনো কি কোনো অভিনেতা চিত্রনাট্যে লেখা চরিত্রকে বদলে দিয়েছেন?
লি চ্যাং-দং: আপনি ‘অভিনেতাকে নির্দেশ দেওয়া’র বদলে ‘অভিনেতার সঙ্গে সহযোগিতা’ বলেছেন—এটি আমার ভালো লেগেছে। ‘অভিনেতাকে পরিচালনা করা’ কথাটিও আমার খুব পছন্দ নয়। এর আসলে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অভিনেতাদের আমি প্রায়ই বলি, ‘অভিনয় কোরো না।’ এতে তারা প্রথমে বিভ্রান্ত হয়। ভাবে, আমি তো অভিনেতা—অভিনয় করব না মানে কী? আমি তাদের বলি, চরিত্রের কোনো নির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশ করার চেষ্টা না করে চরিত্রটি হয়ে সেই আবেগ অনুভব করতে। অবশ্য বলা যত সহজ, করা ততটা নয়। এ জন্য অভিনেতার সঙ্গে অনেক কথা বলতে হয়। কখনো এমন কথাও বলি, যার সঙ্গে ছবির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই—আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা।
আমি এটাকে বলি ‘দরজার হাতল ধরে ফেলা’। হাতলটি একবার ধরতে পারলে দরজা যত ভারীই হোক, খোলা সম্ভব। পরিচালক অভিনেতাকে সেই হাতলটি খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। এর বেশি আর কী করতে পারেন? আমি মনে করি না, অভিনেতা চরিত্রকে বদলে দেন। আসলে চরিত্র আগে থেকে পুরোপুরি নির্ধারিত থাকে না। একজন অভিনেতার মধ্য দিয়েই চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়।
ফিবি চেন: ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’র উল্টো সময়ের কাঠামো কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ককে কীভাবে অনুসন্ধান করে?
লি চ্যাং-দং: আমরা যদি সময়ের উল্টো দিকে যাই—অর্থাৎ ফলাফলটি আগে দেখি, তারপর খুঁজি কীভাবে সেখানে পৌঁছানো হয়েছিল—তাহলে জীবনের ভেতরের ভয়াবহ বিদ্রূপগুলো আরও স্পষ্ট হয়। প্রাচীন গ্রিকরা সময়কে দুইভাবে দেখত। ‘ক্রোনোস’—যে সময়কে মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা যায়। আর ‘কাইরোস’—যে সময় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফিরে তাকালে হঠাৎ অন্য ওজন, অন্য অর্থ পায়। ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’ যেন মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সময়ের দিকে ফিরে তাকানো একটি চলচ্চিত্র।
আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু ফলাফল জেনে যখন সেই সিদ্ধান্তগুলোর দিকে উল্টো পথে তাকাই, তখন বুঝতে পারি—সেগুলোর অর্থ কতটা ভয়ংকর হতে পারে। একজন মানুষের ইতিহাস যেমন তার সিদ্ধান্তের ফল, একটি দেশের ইতিহাসও তেমন। গওয়াংজু, সামরিক শাসন, আইএমএফের সময়কার জাতীয় সংকট—সবই কোনো না কোনো সিদ্ধান্তের ফল। আমি বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের দেখাতে চেয়েছি, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের অর্থ কত গভীর হতে পারে।
ফিবি চেন: আপনার অনেক ছবিই শুরু হয় কোনো আকস্মিকতা বা কাকতালীয় ঘটনা দিয়ে। ‘গ্রিন ফিশ’-এর ট্রেনে পড়ে থাকা স্কার্ফ কিংবা ‘বার্নিং’-এ জং-সু ও হে-মির দেখা হওয়া—এসব ক্ষেত্রে আকস্মিকতার ভূমিকা কী?
লি চ্যাং-দং: আমার মনে হয়, একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষের সঙ্গে দেখা করে, তখনই একটি গল্প শুরু হয়। আমাদের জীবনও এমন। প্রথমে সেটি কাকতালীয় মনে হয়। কিন্তু পরে ফিরে তাকালে মনে হয়, যেন সেটি অনিবার্য ছিল। ‘গ্রিন ফিশ’-এ মাক-দং যদি স্কার্ফের মালিক সেই নারীকে গ্যাং সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হতে দেখেও না দেখার ভান করত, গল্পটি শুরু হতো না। ‘বার্নিং’-এ জং-সুও যদি আফ্রিকা যাওয়ার আগে হে-মির বিড়ালকে খাওয়ানোর অনুরোধ গ্রহণ না করত, সেখানেও গল্পটি অন্যরকম হতো। চলচ্চিত্র কাকতালীয় ঘটনাকে ধরে রাখে। কিন্তু দর্শক ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, সেই আকস্মিকতার মধ্যে একটি অনিবার্য গল্পের কাঠামো লুকিয়ে আছে।

ফিবি চেন: ‘বার্নিং’ তৈরির পেছনে আপনি যে জমে থাকা ক্ষোভের কথা বলেছিলেন, শিল্প সেই হতাশার সঙ্গে কী করতে পারে?
লি চ্যাং-দং: বাস্তবের যন্ত্রণায় মানুষ যখন ক্ষুব্ধ ও হতাশ, তখন শিল্প কী করতে পারে—এই প্রশ্নটি লেখক হিসেবে আমার সময় থেকেই আমাকে তাড়া করে আসছে। সহজ করে বললে, হয়তো শিল্প মানুষের সেই রাগ ও হতাশাকে প্রকাশ করতে পারে।কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিল্প কীভাবে তা করে এবং কী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করে।
আজও পৃথিবীর যুদ্ধ, সন্ত্রাস, পুঁজির অত্যাচার, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিপীড়ন, হত্যা—সবকিছু সিনেমার পর্দায় উঠে আসছে। কিন্তু অনেক সময় সেগুলো শুধু বিনোদন হয়ে যায়, অথবা দর্শকের সাময়িক আবেগ প্রশমনের উপাদান হয়ে ওঠে। মানুষের আত্মাকে স্পর্শ না করেই তারা শেষ হয়ে যায়।
ফিবি চেন: পুরোনো ছবিগুলো আবার দেখে কি কখনো নতুন কিছু আবিষ্কার করেছেন?
লি চ্যাং-দং: সাধারণত ছবি শেষ করার পর আমি আর সেগুলো দেখি না। কিন্তু নতুন রিমাস্টারিং প্রকল্পের কারণে অনেক বছর পর আবার নিজের ছবিগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে। চলচ্চিত্র আমাদের নিজের চোখের বদলে অন্য একজনের চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে শেখায়। এবার আমি যেন ২০ বছর আগের, কিংবা ১০ বছর আগের নিজের চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখলাম।
কখনো সেই মানুষটিকে আমার কাছে অপরিচিত মনে হয়েছে। এটাই হয়তো সবচেয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা—বুঝতে পারা, সময়ের সঙ্গে মানুষটি খুব ধীরে, কখনো সামান্য, কখনো গভীরভাবে বদলে গেছে।

পরিচিতি
লি চ্যাং-দং (জন্ম ১৯৫৪) দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার ও ঔপন্যাসিক। দেগুতে জন্ম নেওয়া লি কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কোরীয় ভাষা ও সাহিত্য পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮৩ সালে উপন্যাস দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়; পরে শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিমার্ণে আগ্রহী হয়ে উঠেন।
১৯৯৭ সালে ‘গ্রিন ফিশ’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ‘পেপারমিন্ট ক্যান্ডি’, ‘ওয়েসিস’, ‘সিক্রেট সানশাইন’, ‘পোয়েট্রি’ ও ‘বার্নিং’ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তার চলচ্চিত্রে ব্যক্তিমানুষের একাকিত্ব, সামাজিক বৈষম্য, অপরাধ, স্মৃতি, ক্ষমতা, ক্ষতি এবং জীবনের অর্থ খোঁজার সংগ্রাম বারবার ফিরে আসে।
‘ওয়েসিস’-এর জন্য ২০০২ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার এবং ‘পোয়েট্রি’-র জন্য ২০১০ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পান। ‘বার্নিং’ ২০১৮ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেস্কি পুরস্কার জেতে এবং অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে শর্টলিস্ট হওয়া প্রথম কোরীয় চলচ্চিত্র হয়। লি চ্যাং-দং ২০০৩–২০০৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রীও ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









