‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে, প্রেমের কী স্বাদ আছে বলো’—আবু জাফরের কথা ও সুরে ফরিদা পারভীনের কালজয়ী গান। অভিনেতার কাছে অভিনয়ও এক ধরনের প্রেম। সেই প্রেম জীবনভর বুকে আগলে রাখেন শিল্পীরা। তবে অভিনয়ের এই প্রেমের সঙ্গে নিন্দাও জড়িয়ে থাকে। সাদেক বাচ্চুর ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল আরও স্পষ্ট।
অভিনয়ে তিনি এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, পর্দায় নেতিবাচক চরিত্রে তাকে দেখে অনেক দর্শক বাস্তব জীবনেও তাকে একই রকম মানুষ ভাবতেন। ফলে নিন্দা যেমন পেয়েছেন, তেমনি সেই নিন্দার মধ্যেও ছিল দর্শকের ভালোবাসা।
মঞ্চ থেকে বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই সাদেক বাচ্চুর বিচরণ ছিল। তবে সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পেয়েছেন। দেশজুড়ে দর্শক তাকে ‘ভিলেন’ হিসেবেই চিনেছে, নিন্দা করেছে এবং ভালোবেসেছে। এমনও হয়েছে, ‘রাজাকার’ চরিত্রে অভিনয়ের কারণে দর্শক তাকে বাদামের খোসা ও পাথর ছুড়ে মেরেছে।
আজ এই গুণী অভিনেতার ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। ২০২০ সালের এই দিনে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করেছেন এবং ২০১৩ সালে অবসর নেন। চাকরি তার অভিনয়জীবনে বড় বাধা তৈরি করেনি। তাই নিয়মিত অভিনয় করে গেছেন।
সাদেক বাচ্চুর অভিনয়ের শুরু ষাটের দশকেই। ১৯৭২ সালের দিকে তিনি ‘গণনাট্য পরিষদ’ থিয়েটারে যুক্ত হন। সেখানেই তার অভিনয়জীবনের মূল যাত্রা শুরু। এই দলের হয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
১৯৭৪ সালে সাদেক বাচ্চু বিটিভিতে যুক্ত হন। প্রযোজক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমামের নাটক ‘প্রথম অঙ্গীকার’ দিয়ে টেলিভিশনে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার। এরপর অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন।
সিনেমায় সাদেক বাচ্চুর অভিষেক হয় ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ দিয়ে। শুরুতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলেও পরে ধীরে ধীরে খল চরিত্রে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষ করে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল পরিচিতি পান। এরপর তাকে বেশির ভাগ সময়ই নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে।
সাদেক বাচ্চু অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘সুজন সখী’।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন সাদেক বাচ্চু।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









