দক্ষিণী সিনেমা জগতের আদর্শ দম্পতি বললেই যাদের নাম প্রথমে চোখে ভেসে আসে, তারা হলেন সুরিয়া ও জ্যোতিকা। দাম্পত্য জীবনের দু’দশক পার করে ফেললেন এই চর্চিত জুটি। জীবনের এই বিশেষ মাইলফলক স্মরণীয় করে রাখতে গতানুগতিক উদযাপনের বদলে একেবারেই অন্য পথ হাঁটলেন তারা। ২০তম বিবাহবার্ষিকীতে সন্তানদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফের বিয়ের অঙ্গীকার বিনিময় করলেন সুরিয়া-জ্যোতিকা।
খ্রিস্টান রীতি মেনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাদের দুই সন্তান—মেয়ে দিয়া ও ছেলে দেব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুরিয়ার ভাই অভিনেতা কার্থিসহ দুই পরিবারের নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন ভিডিও সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন জ্যোতিকা। সেখানে দেখা যায়, ছেলে দেবের হাত ধরে হেঁটে মণ্ডপে পৌঁছাচ্ছেন জ্যোতিকা, আর পাশে মেয়ে দিয়াকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সুরিয়া। একে অন্যের আঙুলে আংটি পরিয়ে হাত ধরে নতুন করে জীবন শুরুর শপথ নেওয়ার মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দু’জনেই।
ভিডিওটির ক্যাপশনে জ্যোতিকা এক দীর্ঘ ও হৃদয়স্পর্শী বার্তা লিখেছেন। তিনি লেখেন—‘‘দ্য সিক্যুয়েল’। আমাদের ভালবাসা আর ঝগড়ার ২০ বছর উদযাপন। এবং না, এটা কোনও নিখুঁত দাম্পত্যের উদযাপন নয়। এটি ত্রুটি, মানিয়ে নেওয়া, বোঝাপড়া, ত্যাগ এবং একে অপরকে স্বার্থহীনভাবে ভালোবাসার উদযাপন। এটি আমাদের সেই মানুষ হয়ে ওঠার গল্প, যা আমরা একে অপরের জন্য হয়ে উঠেছি।”
নিজের সুরিয়ার প্রতি আনুগত্য ও ভালবাসা প্রকাশ করে জ্যোতিকা আরও যোগ করেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি কখনওই কোনো অভিযোগ করব না। কারণ আকাশও তো চাইলেই মাটিকে স্পর্শ করার অধিকার পায় না! চারপাশে তাকালে দেখা যাবে সবকিছুর মধ্যেই কিছু না কিছু অপূর্ণতা রয়েছে। আসল বিষয় হল, আমরা সেই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করি।”
স্বামীর প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “সুরিয়া, আমি আজীবন তোমার সেই অসম্পূর্ণ স্ত্রী হয়েই থাকতে চাই, যে ঝগড়া করবে, মান ভাঙাবে আর এতে প্রতিবার আমাদের সম্পর্ক আরও কিছুটা ঘনিষ্ঠ হবে।’’
সুরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ককেই সবচেয়ে ওপরে স্থান দিয়ে জ্যোতিকা বলেন, “একই মানুষের ভেতরে জীবনসঙ্গী, গোপন কথার সঙ্গী, গসিপ পার্টনার আর সেরা বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই এক দুর্লভ ভাগ্য। তাই আগামী ২০ বছরের জন্য আমাদের এই অপূর্ণ, কিন্তু নিখুঁত বোঝাপড়ার যাত্রাকে চিয়ার্স!”
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে ‘পুভেল্লাম কেট্টুপ্পার’ সিনেমার সেটেই প্রথম দেখা হয়েছিল সুরিয়া ও জ্যোতিকার। সেই প্রাথমিক পরিচয় কালক্রমে গভীর বন্ধুত্ব ও প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ কয়েক বছর প্রেমের পর ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তামিল প্রথা মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সম্পর্কের ২০ বছর পর এসে তাদের এই নতুন করে ‘বিয়ে’ করা প্রমাণ করে—আসল ভালোবাসার সমীকরণ সময়ের সঙ্গে ফিকে হয় না, বরং আরও গাঢ় হয়।
সূত্র: আজকাল


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









