বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নি ও অভিনেত্রী জেইন মেরি আটকের পর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিজের হাত, আঙুল ও পায়ে আঘাতের দাগ দেখান তিনি।
এর আগে শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে তাকে আটক করেছিল পুলিশ। একই ঘটনায় অভিনেতা ইমরান খান ও লেখাওয়াশিংটনকেও আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে ক্যামেরার সামনে নিজের শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলো দেখিয়ে জেইন বলেন, “আমাদের এতটা ভয় দেখিও না, যাতে শুরুতেই আর ভয় পাওয়ার কিছু অবশিষ্ট না থাকে।”
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘‘ইন্টারনেটে (রাষ্ট্রকে) উন্মোচন করে সে।’’
শনিবার আটকের পর পুলিশের ভ্যানের ভেতর থেকে একটি ছবিও প্রকাশ করেছিলেন জেইন। ছবিতে তার পাশে ইমরান খান ও লেখা ওয়াশিংটনকে দেখা যায়।
ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।

আটকের পর কী ঘটেছিল
আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জেইন ও লেখা। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে লেখা ওয়াশিংটন জানান, পুলিশ তাদের বাড়ি ফিরতে দিচ্ছে না। তারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু বাড়ি ফেরার জন্য কোনো গাড়ি বা যানবাহনে উঠতেও দেওয়া হচ্ছে না।
অন্য একটি ভিডিওতে লেখা বলেন, তারা সবাই নিরাপদে আছেন, ভালো আছেন এবং বাড়ির পথে রয়েছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের ভ্যানের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে ইমরান খানকে জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন জেইন।
উত্তরে ইমরান হাসিমুখে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে পুলিশের অভিযান
মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের মধ্যেই এই আটকের ঘটনা ঘটে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থল থেকে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিসের (সিজেপি) বিক্ষোভের জন্য তাদের কাছে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। এ ছাড়া বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমোদিত স্থান আজাদ ময়দান হওয়ায় আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব ছিল না।
তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তারা বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে মুম্বাই পুলিশকে ই-মেইল করেছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব পাননি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি তার পদত্যাগ দাবি করছে। এ নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ করে সংগঠনটি।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সিজেপির আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









