দক্ষিণ ভারতের নারীশাসিত এক কাল্পনিক জনপদ, ক্ষমতার লড়াই, প্রতিশোধ আর অপরাধজগতের আধিপত্য—এমন গল্প নিয়ে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে নতুন ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘আক্কা’। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কীর্তি সুরেশ ও রাধিকা আপ্তে। সিরিজটিকে নারীদের নিজস্ব ‘গেম অব থ্রোনস’ হিসেবে অভিহিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির প্রকাশিত রিভিউতে সিরিজটিকে ৫-এর মধ্যে ৩.৫ রেটিং দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কীর্তি ও রাধিকার চরিত্রের মুখোমুখি সংঘাত এবং তাদের অভিনয় সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ।
১৯৮০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘আক্কা’র গল্পের পটভূমি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী কাল্পনিক জনপদ পেরুনুরু। সেখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে নারীদের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী শাসনক্ষমতা ও অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। পুরুষদের তুলনায় নারীরাই সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের প্রধান ভূমিকায়।
সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ভাওয়ানি ও রুদ্র নামের দুই প্রভাবশালী নারীকে ঘিরে। ভাওয়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কীর্তি সুরেশ এবং রুদ্র চরিত্রে রয়েছেন রাধিকা আপ্তে।
ভাওয়ানি তার পরিবারের ৮০০ বছরের পুরোনো সাম্রাজ্য, ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক আধিপত্য রক্ষায় মরিয়া। অন্যদিকে রহস্যময় বহিরাগত রুদ্র পেরুনুরুতে এসে সেই প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানায়। ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে দুই নারীর অতীত, প্রতিশোধের ইতিহাস এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।
পাঁচ পর্বের এই সিরিজে গল্পের বিভিন্ন সময়কাল তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেরুনুরুর নারীশাসিত সমাজব্যবস্থার উৎপত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সামনে আসে।
অভিনয়ে নজর কেড়েছেন কীর্তি ও রাধিকা
এনডিটিভির পর্যালোচনায় রাধিকা আপ্তের অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিশোধস্পৃহা ও নির্মমতার মিশেলে রুদ্র চরিত্রটিকে তিনি পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।
অন্যদিকে ভাওয়ানি চরিত্রে কীর্তি সুরেশের অভিনয়ে দৃঢ়তা ও আবেগের সমন্বয় দেখা গেছে। পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির দ্বন্দ্ব চরিত্রটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে দুই অভিনেত্রীর মুখোমুখি দৃশ্যগুলোকে সিরিজের সেরা অংশগুলোর মধ্যে রেখেছেন সমালোচক। শেষ দুই পর্বে গল্পের গতি, সংঘাত ও অ্যাকশন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া তানভি আজমি, অংশুমান পুষ্কর ও মহেশ মাঞ্জরেকরসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
নারীশাসিত সমাজের ভিন্ন চিত্র
‘আক্কা’ শুধু অপরাধজগতের ক্ষমতার লড়াইয়ের গল্প নয়; এতে নারী স্বাধীনতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ঐতিহ্যের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
পেরুনুরুতে কন্যাসন্তানের জন্মকে আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও পরিবারের সাম্রাজ্য রক্ষার স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
তবে সিরিজটি নারীশাসিত সমাজকে পুরোপুরি আদর্শ হিসেবে দেখায়নি। ক্ষমতা ও ঐতিহ্য রক্ষার নামে নারীরাও কীভাবে অন্য নারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটিও গল্পে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্মাণ ও চিত্রায়ণে প্রশংসা
সিরিজটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন নবাগত নির্মাতা ধর্মরাজ শেট্টি। প্রযোজনায় রয়েছে যশরাজ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠান ওয়াইআরএফ এন্টারটেইনমেন্ট।
১৯৮০-এর দশকের দক্ষিণ ভারতীয় জনপদের পরিবেশ, বাড়িঘর, পোশাক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে নির্মাতারা বিশেষ যত্ন নিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। প্রোডাকশন ডিজাইনার লক্ষ্মী কেলুসকর ও কস্টিউম ডিজাইনার শীতল শর্মার কাজও প্রশংসা পেয়েছে।
সিরিজটির প্রথম মৌসুমের শেষদিকে একটি বড় রহস্য উন্মোচিত হয়। এতে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় মৌসুম নির্মাণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে শক্তিশালী নারী চরিত্র, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধ এবং ব্যতিক্রমী সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে ‘আক্কা’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী একটি ক্রাইম থ্রিলার। সিরিজটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









