মাহিনের জীবনের একটাই স্বপ্ন, মানুষ তাকে 'ভালো মানুষ' বলুক। একদিন ফেসবুকে তার সঙ্গে পরিচয় হলো নীলা নামে এক মেয়ের। প্রথম দিনেই নীলা বলল, আমি খুব ভালো মানুষ পছন্দ করি। যারা নিজের কথা না ভেবে অন্যের জন্য বাঁচে। মাহিনের বুকের ভেতর যেন জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করল। পরদিন নীলা লিখল, আজ এত অনাথ শিশুকে খাবার দিলাম! খুব ভালো লাগছে।
মাহিন সঙ্গে সঙ্গে লিখল, অসাধারণ!
তুমিও তো পারো।
মাহিন সেদিনই পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটা সংগঠনে দান করল। রসিদটা নীলাকে পাঠাল।
নীলা শুধু একটা হার্ট ইমোজি পাঠাল। মাহিনের মনে হলো, এই হৃদয়েই একদিন সংসার হবে। এরপর শুরু হলো মহত্ত্বের প্রতিযোগিতা। নীলা লিখছে, আজ গাছ লাগালাম।
মাহিন পাঁচটা লাগাল।
নীলা লিখছে, রক্ত দিলাম।
মাহিন রক্ত দিয়ে ছবি তুলল।
নীলা লিখছে, বৃদ্ধাশ্রমে গেলাম।
মাহিন দুটো বৃদ্ধাশ্রম ঘুরে এল।
একদিন নীলা বলল, তুমি এত ভালো! তোমার মতো মানুষ খুব কম দেখি।
মাহিন লজ্জা পেয়ে লিখল, সবই তোমার জন্য।
নীলা অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিল না। রাতের দিকে লিখল, একটা অনুরোধ করব?
একশোটা করো। আমি একটা সামাজিক উদ্যোগ চালাই। নতুন টি-শার্ট বানিয়েছি। সামনে লেখা 'আমি ভালো মানুষ'। তুমি যদি একশোটা কিনে পরিচিতদের দাও, খুব উপকার হয়।
মাহিন এক মুহূর্ত দেরি করল না। একশোটা টি-শার্ট কিনে ফেলল। পরদিন কুরিয়ার এলো। বাক্স খুলে সে থমকে গেল। সব টি-শার্টের পেছনে বড় বড় অক্ষরে লেখা, 'এই টি-শার্ট কিনে একজন ভালো মানুষ আমাদের ব্যবসা চালিয়ে গেলেন।'
মাহিন তাড়াতাড়ি নীলাকে ফোন দিল। ফোন বন্ধ। মেসেঞ্জারে লিখল। উত্তর এলো না। শুধু কয়েক দিন পরে নীলার নতুন পোস্ট চোখে পড়ল, বন্ধুরা, 'আমি ভালো মানুষ' টি-শার্টের প্রথম লট শেষ। যারা কিনেছেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে একজনকে। উনি একাই একশোটা কিনে আমাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীতে ভালো মানুষ এখনও আছে।
মাহিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাক্সটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর একে একে টি-শার্টগুলো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বিলি করতে শুরু করল। কারণ এতগুলো টি-শার্ট ঘরে রাখলে সবাই একটাই প্রশ্ন করবে, 'ভালো মানুষ হতে গিয়ে তুই আসলে কত টাকায় ঠকলি?'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









