আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি সংজ্ঞা-নির্ধারণী তারিখ। দিনটি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী’ চেতনার জাগরণ এবং সার্বভৌম পরিচয় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এটি জাতীয় বর্ষপঞ্জির নিছক একটি তারিখ নয়; বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শক্তির পুনর্বিন্যাস এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনা উন্মেষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মানুষ বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক সাম্য বঞ্চিত ছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ বিবেচনায় ৭ নভেম্বরের উত্তরাধিকার এখনো প্রাসঙ্গিক।
আজ দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সুসজ্জিত করা হবে। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়সমূহে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সকল শিশু পার্ক শিশুদের জন্য দিনব্যাপী বিনা টিকেটে উন্মুক্ত থাকবে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর, সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরসমূহে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।
আজ বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর রাজধানীতে শোভাযাত্রা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে পায়ে হেঁটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে। জানা গেছে, ৭ নভেম্বরের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার রাজপথে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নেতাকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে আজ ৭ নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা করবে দলটি। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি। গতকাল শুক্রবার এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগও করেন তিনি। রিজভীর দাবি, পলাতক শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উসকানি দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কারখানার মালিকও অরাজকতায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশ থেকেও উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর উপলক্ষে পোশাক শ্রমিকদের কর্মসূচিতে জনগণ নিরাপত্তা দেবে। সরকার ও জনগণ এ বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে। কোনো পক্ষ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিরোধী দল শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে। রিজভীর মতে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে গুপ্তদের সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তৈরি সংকটের সমাধান হয়ে গেছে। এখন যা ঘটছে, তা শ্রমিক আন্দোলন নয়, বরং ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অংশ। উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে কেউ সফল হতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









