আজ ২৮ রমজান। আল্লাহতায়ালার রহমতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো বিশেষ ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা যারা রমজানের রোজা কেবলমাত্র আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির খাতিরে রেখেছি তারা অবশ্যই বড় সৌভাগ্যবান।
এখন রমজানের পুণ্যকর্মগুলো বছর ব্যাপী জীবিত রাখতে। আমরা যদি বছরের প্রতিটি দিন আল্লাহপাকের আদেশ-নিশেধ মেনে চলে জীবন অতিবাহিত করি তাহলে অবশ্যই আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন। আমরা কেউ জানি না, আগামী রমজান লাভ করার সৌভাগ্য আমাদের হবে কি না।
রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া, অন্তরের পরহেজগারী, হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা এবং খোদাতায়ালার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি যাবতীয় গুণাহসমূহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে আর আল্লাহ ও রসুলের শিক্ষা মতাবেক জীবন পরিচালিত করতে।
আমাদের রোজা তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় হবে যখন আমরা রমজানের পর বাকী এগার মাস রমজান মাসের দিনগুলোর মতই নিজের জীবন অতিবাহিত করব। রমজানে যে বিষয়গুলো প্রশিক্ষণ নিয়েছি তা বাকী দিনগুলোতে কাজে লাগাতে হবে, তাহলেই আমাদের রোজা খোদার দরাবারে গ্রহণীয়তার মর্যাদা পাবে।
রমজান মাসের রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। শাওয়াল মাসের রোজা সম্পর্কে হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। যেমন-হজরত আবু আয়্যূব আনসারী (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রসুল করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে এবং পরবর্তীতে (ঈদের দিন বাদ দিয়ে) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখে সেক্ষেত্রে সে যেন গোটা বছরই রোজা রাখলো (মুসলিম)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম শাওয়াল মাসের রোজার গুরুত্ব কত ব্যাপক।
মহানবী (সা.) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজার কথা উল্লেখ করে এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন, রমজানের ৩০টি ও শাওয়ালের ৬টি মোট ৩৬ টি রোজা যে রাখবে সে যেন সারাটা বছর রোজা রাখার সওয়াব পেল। আরেক হাদিসে উল্লেখ আছে, এক রোজার দশটি সওয়াব।
আমাদের সবার উচিত, রমজানের দিনগুলো যেভাবে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটিয়েছি বছরের বাকী দিনগুলোও যেন সেভাবেই কাটাই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখার তৌফিক দান করুন। সেই সাথে বছরের অন্যান্য মাসেও যেন মহানবী (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী দু’একটি করে নফল রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলি আর এর ফলে আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে সুদৃঢ়।
আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে তার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে বছরের অন্যান্য দিনেও নফল রোজা রাখার তৌফিক দিন, আমিন।
লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিষ্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









