ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জমে উঠেছে ফুটপাতের ঐতিহ্যবাহী ঈদ বাজার। ঢাকা–পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশের মাহবুব মার্টেক সংলগ্ন এই ফুটপাত এখন মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও ক্রেতাদের খরচে রয়েছে স্পষ্ট সংযমের ছাপ।
বিকেল গড়াতেই ফুটপাতজুড়ে নেমে আসে মানুষের ঢল। সারি সারি দোকানে সাজানো হয়েছে শিশু, নারী ও পুরুষের পোশাক, জুতা, ব্যাগসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য। তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য পাওয়া যায় বলে স্থানীয় শপিংমলগুলোর চেয়ে এখানেই বেশি ভিড় করছেন ক্রেতারা।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই বাজারটা আমাদের জন্য শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এটা একটা ঐতিহ্য। প্রতি বছর ঈদের আগে এখানেই ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। তবে এ বছর শুরুতে বেচাকেনা কিছুটা ধীর ছিল, এখন শেষ সময়ে এসে ভিড় বাড়ছে।”
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তারা খরচের ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক। সীমিত আয়ের মধ্যেই ঈদের প্রস্তুতি সারতে চাইছেন তারা।
নিজপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, “শপিংমলে গেলে একেকটা কাপড়ের দাম অনেক বেশি। কিন্তু এখানে কম টাকায় পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু কেনা যায়। তাই আমরা ফুটপাতেই বেশি আসি।”
আরেক ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “এই বছর আয় কম, খরচ বেশি। তাই একটু হিসেব করে চলতে হচ্ছে। ফুটপাতের বাজারে দরদাম করে নিজের সাধ্যের মধ্যে ভালো জিনিস পাওয়া যায়, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুবিধা।”
বীরগঞ্জ কলেজপাড়ার গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন, “ঈদ মানেই নতুন কাপড়, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য। নিজের জন্য না কিনলেও তাদের জন্য কিনতেই হয়। এই ফুটপাতের বাজার থাকায় আমরা সেই আনন্দটা ধরে রাখতে পারছি।”
বিক্রেতারা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। অনেক দোকান রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। তারা আশা করছেন, শেষ দুই-তিন দিনে বেচাকেনা আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় বীরগঞ্জের এই ফুটপাতের বাজার আজও মধ্যবিত্ত মানুষের ঈদ প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে এই বাজার যেন হয়ে উঠেছে এক নির্ভরতার নাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









