বাটন-ডাউন শার্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ফ্যাশনের এক ক্লাসিক স্টাইল। তবে এই শার্টের পেছনে থাকা ছোট্ট একটি অংশ ‘লকার লুপ’ অনেক সময়ই নজর এড়িয়ে যায়। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এই লুপের পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ব্যবহারিক প্রয়োজন এবং একসময়কার মজার সামাজিক তাৎপর্য।
ইতিহাস বলছে, এই লুপের সূচনা মূলত নৌবাহিনীতে। সীমিত জায়গায় পোশাক রাখার সুবিধার্থে নাবিকরা শার্ট সহজে ঝুলিয়ে রাখতে এই লুপ ব্যবহার করতেন। তখন এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যবহারিক একটি উদ্ভাবন, যার সঙ্গে ফ্যাশনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
পরবর্তীতে ১৯৬০-এর দশকে এই লুপ সাধারণ মানুষের পোশাকে স্থান করে নেয়। বিশেষ করে আমেরিকান পোশাক ব্র্যান্ড জ্যান্ট এই লুপকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইভি লীগ শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি শার্টে এই লুপ যুক্ত করা হয়, যাতে তারা সহজে লকারে ঝুলিয়ে রাখতে পারে এবং পোশাক ভাঁজ পড়া থেকে রক্ষা পায়। সেখান থেকেই ‘লকার লুপ’ নামটির প্রচলন শুরু।
শুধু ব্যবহারিক দিকেই নয়, ১৯৬০'র দশকে এই লুপ একটি সামাজিক প্রতীকেও পরিণত হয়। সে সময় ছেলেরা যদি তাদের শার্টের লুপ খুলে ফেলত, তা বোঝাত তারা একটি সম্পর্কে রয়েছে। অন্যদিকে মেয়েরা তাদের সঙ্গীর স্কার্ফ পরত সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবে। তবে বিষয়টি কখনো কখনো দুষ্টুমির পর্যায়েও পৌঁছাত। অনেকে পছন্দের মানুষের শার্টের লুপ টেনে ছিঁড়ে ফেলত!
আইভি লীগ স্টাইল জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শার্টের এই লুপ ভালো রুচি ও মানসম্মত পোশাকের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। জ্যান্ট কোম্পানি ছাড়াও সিরো, রেন, ক্রিগটন, ঈগলের মতো বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিজেদের নকশায় লুপ যুক্ত করতে শুরু করে।
বর্তমান সময়ে আধুনিক হ্যাঙ্গারের সহজলভ্যতার কারণে লকার লুপের ব্যবহারিক প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। তবুও এটি ফ্যাশনের ঐতিহ্যবাহী একটি অংশ হিসেবে এখনো টিকে আছে। রালফ লরেন এবং জে. ক্রু'র মতো ব্র্যান্ডগুলো এখনো এই লুপসহ শার্ট তৈরি করছে, যা অতীতের ঐতিহ্য ও আধুনিক স্টাইলের এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্যাশনের ক্ষুদ্র এই উপাদানটি তাই কেবল একটি নকশা নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্টাইলের এক জীবন্ত প্রতীক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









