পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা। অধিকাংশ সমীক্ষায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) এগিয়ে দেখানো হলেও, সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের (তৃণমূল) সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। ফলে ক্ষমতার পালাবদল হবে, না কী বর্তমান সরকারই টিকে থাকবে- তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
সংখ্যার অঙ্কে জটিল সমীকরণ
এই নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বিভিন্ন সমীক্ষার পূর্বাভাসে বিজেপি অনেক ক্ষেত্রেই এই জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলছে বা তার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। যেমন ম্যাট্রিজ়, চাণক্য স্ট্র্যাটেজি বা পি-মার্ক এই সংস্থাগুলোর সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৪৬ থেকে ১৭৫ আসনের মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলকে ১১৮ থেকে ১৪০ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ দেখানো হয়েছে।
তবে চিত্র একেবারেই একমুখী নয়। পিপল্স পাল্স এবং জনমত পোল্সের মতো সংস্থার সমীক্ষায় আবার তৃণমূলের সুস্পষ্ট এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে- কোথাও কোথাও ১৮০-র বেশি আসন পাওয়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, ভোটারদের রায় নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা প্রবল।
বিরোধীদের অবস্থান
বামফ্রন্ট ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (কংগ্রেস) অবস্থান অধিকাংশ সমীক্ষাতেই দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের শূন্য বা একেবারে প্রান্তিক উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। যদিও কিছু সমীক্ষায় কংগ্রেস ১-৩টি আসন পেতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে।
অতীতের প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল, আর বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। সেই তুলনায় এবারের বুথফেরত সমীক্ষা বিজেপির উল্লেখযোগ্য উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, বুথফেরত সমীক্ষা সবসময় বাস্তব ফলের সঙ্গে মেলে না- ফলে সতর্ক থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোটের হার ও প্রশাসনিক বিতর্ক
এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার নজিরবিহীন- ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। যা গণতান্ত্রিক অংশ নেয়ার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যদিকে নির্বাচন চলাকালীন ভারতের নির্বাচন কমিশনের একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকজন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরানো এবং নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতৃত্ব আপত্তি জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এখন নজর গণনায়
দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বুধবার। এখন সমস্ত নজর ৪ মে ভোটগণনার দিকে। বুথফেরত সমীক্ষা কতটা বাস্তবের সঙ্গে মেলে, তা স্পষ্ট হবে ওই দিনই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









