দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটি ও তার উপসর্গে আরও ছয় শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আটশ পেরিয়ে গেল। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই হাম ও তার উপসর্গে প্রাণ হারানোদের সিংহভাগই কোমোলমতি শিশু।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন।
গত প্রায় চার মাস ধরে ভুলে যাওয়া হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দেখছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বজুড়ে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচওর সদর দফতর জেনেভায় নিয়মিত যে প্রাথমিক উপাত্ত জমা হয়, সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করে এই চিত্র দেখা গেছে। ডব্লিউএইচও এই ছয় মাসে বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম কিংবা এর উপসর্গের রোগী পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সবচেয়ে বড় হাম সংকট এখন দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছয় মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এ সময়ে দেশটিতে হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৬০৭ জন। যুদ্ধপীড়িত ইয়েমেন ১৪ হাজার ৫২১ রোগী নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে এরপর রয়েছে মেক্সিকো (১২,৪৯৫), পাকিস্তান (১১,০৩৭), ক্যামেরুন (৯,৬৫৩), কাজাখস্তান (৭,৭৩০), গুয়েতেমালা (৬,৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬,৮১৫) ও সুদান (৫,৭৬৬)।
দেশে চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিছুদিনের মধ্যে রোগীর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সংক্রমণের তথ্য দিচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









