পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মো. মামুন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাই মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা জমির মাটি কেটে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বাধা দিলে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬ শতাংশ জমির মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে এসব জমি ভোগদখল করে আসছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির ওয়ারিশরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে তিনি বায়না সূত্রে জমি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









