মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
রবিবার (১৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, ড্রোন ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দফায় হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব এবং ওই অঞ্চলে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর পরই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করে।
যেসব দেশে হামলার দাবি করেছে ইরান
কাতার:
আইআরজিসির দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
ওমান:
ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
কুয়েত:
কুয়েতে থাকা মার্কিন সেনাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন ও গোলাবারুদের গুদামে বিস্ফোরক ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
বাহরাইন:
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
জর্ডান:
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কমান্ড সেন্টার ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংসের দাবি করেছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা
ইরান জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, একতরফা চুক্তির সময় শেষ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে এর মূল্য দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, গত সপ্তাহে পরিচালিত তিন দফা অভিযানে ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র ছিল।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তিন রাতের অভিযানে ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমেছে।
তবে ইরান বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কাতার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অন্য দেশগুলোর পক্ষ থেকেও ইরানের সব দাবির পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।
সূত্র: আল-জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









