ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার স্পষ্ট ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে “কোনো অবস্থাতেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।”
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যের জবাব দেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইসরায়েলের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। এ নিয়ে তিনি নগরীর আইন বিভাগের সঙ্গে ‘সক্রিয়ভাবে আলোচনা’ করছেন।
মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কের আইনে আমাকে যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আমি সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।”
গত শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তার প্রশাসন এখনো বিবেচনা করছে।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা হেগে।”
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এ প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, “তিনি একজন যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।” তার দাবি, গত কয়েক বছরে নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক মানুষই একই মত পোষণ করেন।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও মামদানি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে তিনি পুলিশকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। তাঁর মতে, সেটিই হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার পদক্ষেপ।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সাধারণত নিউইয়র্ক সফর করেন নেতানিয়াহু।
মামদানির বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েল সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ (অবিশ্বস্ত বা পক্ষপাতদুষ্ট আদালত) বলে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করে। ইসরায়েলের অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতেই এমন মন্তব্য করছেন মামদানি।
২০০২ সালে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে আদালতের এখতিয়ার ইসরায়েল স্বীকার করে না। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য নয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত বা রায় চাওয়ায় আদালতের বিচারক, কৌঁসুলি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









