অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় দিবস তিশা ব'আভ উপলক্ষে ৪ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থী কর্মীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি বছরে এটি আল-আকসা প্রাঙ্গণে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রবেশের ঘটনা। এ সময় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ওই স্থানে যান, যা নিয়ে ফিলিস্তিন ও জর্ডানসহ বিভিন্ন পক্ষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জেরুজালেম গভর্নরেট জানান, বৃহস্পতিবার ( ২৩ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। দিনের শেষে এ সংখ্যা ৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তা হলে তিশা ব'আভ উপলক্ষে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিশা ব'আভ হলো প্রাচীন দুটি ইহুদি মন্দির ধ্বংস হওয়ার স্মরণে পালিত শোকের দিন। মুসলমানদের কাছে একই স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ, আর ইহুদিদের কাছে এটি টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।
কড়া নিরাপত্তা, ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজন মুসল্লিকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়া চেকপয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ফলে বয়স্ক ব্যক্তিদের ছাড়া অধিকাংশ ফিলিস্তিনির জন্য আল-আকসায় প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বেন-গভিরের সফর নিয়ে সমালোচনা
কট্টর ডানপন্থী নেতা ও ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে তিনি বলেন, “তিশা ব'আভে সেখানে যাওয়া ইহুদিরা নিজেদের ‘এই স্থানের মালিক’ বলে অনুভব করছেন এবং তিনি এ পরিস্থিতিকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ বলে অভিহিত করেন।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এক হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও ১৯৬৭ সালের প্রচলিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী অমুসলিমরা সেখানে প্রবেশ করতে পারলেও প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।
ফিলিস্তিন ও জর্ডানের নিন্দা
ফিলিস্তিনি প্রশাসন বেন-গভিরের এ সফরকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে আল-আকসা প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, আল-আকসা সম্পূর্ণভাবে একটি ইসলামি উপাসনালয় এবং এর ওপর ইসরায়েলের কোনো বৈধ সার্বভৌমত্ব নেই।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেই যাবে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বেন-গভিরের সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির ভাষ্য, এটি মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি, বর্বর আচরণ এবং অগ্রহণযোগ্য উসকানি।
আরও উত্তেজনার আশঙ্কা
পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-আকসা প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রবেশ শুক্রবারও অব্যাহত থাকতে পারে। যেহেতু জুমার নামাজে সাধারণত হাজারো মুসল্লি সেখানে সমবেত হন, তাই নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে এবং ১৯৮০ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









