দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফেরা নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার (১ আগস্ট) কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সেকুলার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন ভীতি বা হুমকির সংস্কৃতি নেই। তিনি বলেন, তসলিমা নাসরিন যতবার ইচ্ছা বাংলায় আসতে পারেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের হাতে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানস্থলে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। দর্শকদের ছাতা, ব্যাগ ও পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এছাড়া তসলিমার যাতায়াতের জন্য বিশেষ এসকর্ট গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দিল্লি থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তসলিমা নাসরিন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাস প্রকাশকে কেন্দ্র করে কলকাতার একাংশে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। সে সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বাম সরকার বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে হয়।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তসলিমার ক্ষেত্রে ওই নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতি বহাল ছিল। দীর্ঘ সময় পর রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি আবার কলকাতায় ফিরেছেন।
তসলিমা নাসরিন আশির দশকের শেষ দিকে লেখালেখির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। নারী অধিকার, সমাজের রক্ষণশীলতা ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে তার লেখাগুলো নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ১৯৯৩ সালে তার আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি।
১৯৯৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে দীর্ঘদিন পর আবার কলকাতায় ফিরেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









