ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে দেশটির ওপর পরিকল্পিত বিমান হামলা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারার শর্তে আক্রমণ বাতিল করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি’ অবসানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্মিলিতভাবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন ও তীব্র হামলা চালাতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশের মধ্যেই তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করে সতর্ক করেছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করা যেকোনো আঞ্চলিক দেশ ইরানের লক্ষ্যবস্তু হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দেশটি।
শনিবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ হামলা থেকে ‘বিরত থাকতে’ এবং চুক্তির সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পর তিনি হামলা বাতিল করেছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
এর আগে শনিবার সকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য যুদ্ধাবস্থা বা জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে নাগরিকদের প্রয়োজনে দ্রুত দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল। গত শুক্রবার মার্কিন ক্যাবিনেট বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব, যাতে এক পর্যায়ে তারা বলতে বাধ্য হয়—আমরা আর এটা নিতে পারছি না।’
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি জুনে ভেঙে পড়ার পর থেকে উভয় পক্ষ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করেছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে নিশানা করেছে।
সূত্র: বিবিসি, সিবিএস নিউজ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









