ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, ২০২৬ সালের এই প্রাদুর্ভাব যেভাবে ছড়াচ্ছে, তা ২০১৪-২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পূর্ব কঙ্গোতে ছড়ানো এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি আক্রান্তের মধ্যে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ছড়ানো ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহামারির ঘোষণা দেওয়া হলেও জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে রয়েছে বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরন, যার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাত্র ৩০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক ড. মোহাম্মদ জানাবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে আশার কথা হলো, বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত এই বিরল প্রজাতির ইবোলা টিকার মানব শরীরে প্রথম পরীক্ষা (হিউম্যান ট্রায়াল)-এর অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এছাড়া কঙ্গোতে বিদ্যমান দুটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে ডব্লিউএইচও।
সূত্র: আল জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









