৯২ বছর বয়সে মারা গেলেন গ্লোরিয়া স্টেইনেম। তার মৃত্যুতে যেন নারীবাদী আন্দোলনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। কিন্তু তাকে ঘিরে যে স্মৃতি, যে সাহস আর যে প্রশ্ন করার শক্তি—তা থেকে গেল পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের কাছে। লেখক, শিল্পী, অভিনেতা ও অধিকারকর্মীরা স্মরণ করছেন তাঁকে নিজেদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে।
তিনি আমাদের সবাইকে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন: দুয়া লিপা, সংগীতশিল্পী
গ্লোরিয়া সব সময় সীমারেখাকে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছেন। পৃথিবীর নারীদের জন্য লড়েছেন—তাদের চিনতেন কি না, তা কখনো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আজ নারীরা যে অধিকারগুলো ভোগ করেন, তার পেছনে গ্লোরিয়ার মতো নারীবাদী পথপ্রদর্শকদের বড় ভূমিকা আছে। তিনি আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতার বাইরেও পৃথিবীকে দেখতে উৎসাহ দিয়েছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, তার কাজ ও উত্তরাধিকার এখনো নতুন প্রজন্মের নারীবাদীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

তিনি কখনো নিজের পরিচয় লুকাননি: সান্দ্রা বার্নহার্ড, অভিনেত্রী ও কৌতুকশিল্পী
কৈশোরে গ্লোরিয়া ছিলেন আমার পথের আলোকবর্তিকা। স্কুলের ছাত্রী থাকা থেকে শুরু করে অভিনয়ের জগতে পা রাখার সময় পর্যন্ত তিনি আমাকে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী হতে শিখিয়েছেন। নিজের পরিচয় বা ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেখানোর প্রয়োজন যে নেই, সেটা তার কাছ থেকেই শিখেছি। যে প্রজন্মের নারীরা নিজের মতো করে কথা বলতে, হাসতে এবং কোনো সংকোচ ছাড়াই নিজের অবস্থান প্রকাশ করতে পেরেছেন, গ্লোরিয়া তাদের পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। তার কাছে আমার ঋণ অনেক।
নিজের জায়গায় দৃঢ় থাকার এক আদর্শ: মার্গারেট অ্যাটউড, লেখক
গ্লোরিয়াকে আমি তার ‘মিস’ পত্রিকার সময় থেকেই চিনতাম। ‘মিস’ পত্রিকার একটি অনুষ্ঠানে আমার দেখা হয়েছিল আরেক অসাধারণ মার্কিন তারকা ডলি পার্টনের সঙ্গে। গ্লোরিয়া ছিলেন ‘সেকেন্ড ওয়েভ’র নারীবাদের অন্যতম প্রতীক। তিনি নারীবাদকে এমন একটি প্রকাশ্য মুখ দিয়েছিলেন, যা নারীবাদীদের নিয়ে প্রচলিত নানা বিদ্রূপ ও ভুল ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিল।
তিনি আমাকে শিখিয়েছেন নিজের জায়গায় দৃঢ় থাকতে—সম্ভব হলে শান্তভাবে, আর প্রয়োজন হলে আরও শক্তভাবে। তাকে নিয়ে কত কটু কথা বলা হয়েছে, কত আক্রমণ এসেছে; কিন্তু তিনি সব সহ্য করে নিজের পথ থেকে সরে যাননি।
তার জীবনের কাজ এবং বিভিন্ন আন্দোলনে তার ভূমিকার তালিকা পড়লে সত্যিই অবাক হতে হয়—একজন মানুষ কীভাবে এত কিছু করতে পারেন! তার প্রিয় চরিত্রদের একজন ছিলেন ওয়ান্ডার ওম্যান। আমার কাছে গ্লোরিয়াও ছিলেন এক ধরনের ওয়ান্ডার ওম্যান।
তাঁকে ছাড়া নিজের জীবন কল্পনা করা কঠিন: তাভি গেভিনসন, লেখক ও অভিনেত্রী
অসংখ্য মানুষের মতো আমিও বলতে পারি, গ্লোরিয়া স্টেইনেমের সক্রিয়তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস ছাড়া আমার জীবন কল্পনা করা কঠিন। ‘মিস’ পত্রিকা এবং তার তৈরি করা নারীবাদী ধারাবাহিকতা না থাকলে ‘রুকি’ পত্রিকার জন্মও হয়তো হতো না।

তিনি ছিলেন দুর্দান্ত এক মানুষ: রোনান ফ্যারো, লেখক ও সাংবাদিক
গ্লোরিয়া একটি প্রজন্মকে শিখিয়েছেন কীভাবে উদ্দেশ্য ও ন্যায়বোধ নিয়ে বাঁচতে হয়। তিনি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলো খুঁজে নিতেন এবং সেগুলো লড়তেন—এমন জায়গাতেও, যেখানে কেউ হয়তো তাকে প্রত্যাশা করত না।
বহু বছর তাকে জানার পর আমি জানতে পারি, আমার পরিবারের সঙ্গে জড়িত একটি ঘটনাতেও তিনি একসময় হস্তক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু তার বড় বড় আন্দোলনের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, মজার, আকর্ষণীয় এবং ভীষণ সাহসী। নিজের ভুলকে তিনি কখনো লুকাননি। বরং ভুল হলে তা স্বীকার করেছেন।
অনেকের মতো আমিও একসময় ভাবতাম, বড় হয়ে গ্লোরিয়ার মতো হতে চাই। এখনো সেই ইচ্ছা আমার আছে।
নারীদের জন্য তিনি এনেছিলেন নতুন এক দৃষ্টি: জোয়ান বায়েজ, সংগীতশিল্পী
তুমি এসেছিলে
নারীরা কী করতে পারে
আর কেন তা করা উচিত—
তার এক নতুন দৃষ্টি নিয়ে।
তোমার সাহসের জন্য,
তোমার অধ্যবসায়ের জন্য,
তোমার স্বপ্ন ও কাজের জন্য,
সব নারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য—
শান্তিতে থেকো, গ্লোরিয়া।
ধন্যবাদ তোমাকে।

তিনি অন্য সবাইকেও একটু মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন: মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস, সমাজসেবী
প্রজন্মের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ ঘটে না। তার জন্য প্রয়োজন গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মতো নেতা, যারা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
নারীর অধিকার নিয়ে কয়েক দশকের তার কাজ, শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আমাদের অনেককে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় আমাদেরও থাকার অধিকার আছে। তিনি আমাদের একটি সহজ সত্য বুঝিয়েছেন—নারীরা যখন নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়াতে পারেন, তখন তারা অন্যদেরও একটু মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহস দেন।
আমার কাছে এবং আরও অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক আলোর মতো। তার কাছে আমাদের ঋণ অনেক।
তিনি আরও ন্যায়ভিত্তিক এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন: এলেন ওয়েলটারথ, লেখক ও বার্থফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা
অন্ধকার সময়ে গ্লোরিয়া স্টেইনেমকে হারানো মানে যেন একটি বাতিঘর হারানো। কিন্তু তার উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে—কারণ তিনি প্রতিটি প্রজন্মের নারীর ভেতর একটি করে আলো জ্বেলে গেছেন।
আমি নিজেকে সেই কোটি কোটি আলোর একটি মনে করতে পেরে গর্বিত। গ্লোরিয়া আমাদের দেখিয়েছেন, নিজের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করার অর্থ কী; নারীদের ছোট করে রাখা ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়; এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক একটি পৃথিবী কল্পনা করার পাশাপাশি সেই পৃথিবী গড়ে তোলার সাহস কীভাবে অর্জন করতে হয়।
তার জীবন এখনো আমাদের সামনে থাকা কাজের একটি মানচিত্র।
আমাদের অরণ্যের একটি বিশাল গাছ পড়ে গেল: পদ্মা লক্ষ্মী, টেলিভিশন উপস্থাপক ও লেখক
জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত গ্লোরিয়া তার সময় ও শক্তি অন্যদের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন। যখনই তার সঙ্গে কথা বলেছি, কোনো না কোনো অনুষ্ঠান, ভ্রমণ, আন্দোলন বা নতুন উদ্যোগের কথা শুনেছি। মানুষকে একত্র করা তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন।
তার আরেকটি দিকও মনে রাখা দরকার—তার রসবোধ ছিল অসাধারণ। তিনি অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন। তার সঙ্গে থাকা ছিল আনন্দের। নিজের গুরুত্বকে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিতেন না, কিন্তু পৃথিবীর সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন।
আমেরিকায় নারীদের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক নানা হতাশাজনক ঘটনার পরও তিনি আশাবাদী ছিলেন। তিনি কখনো হাল ছেড়ে দেননি।
আমার চোখে তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হলো—তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, শব্দের শক্তি আছে। নাগরিক আন্দোলন, সমাজ সংগঠন ও নারীবাদী আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক বিশাল ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তার আগে তিনি ছিলেন একজন লেখক। আর তার লেখা—আমার বিশ্বাস—প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে থাকবে।
তিনি ছিলেন নির্ভীক। তার কথা শুনলে মানুষ নতুন করে সাহস পেত, উদ্দীপ্ত হতো, নিজের শক্তি অনুভব করত। কিন্তু তিনি শুধু কথা বলতে চাইতেন না; শুনতেও চাইতেন। আমার মনে হয়, সত্যিকারের বড় মানুষের একটি বৈশিষ্ট্যই হলো অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা।
তিনি আমাদের ওপর দীর্ঘ এক ছায়া রেখে গেছেন। তাকে খুব, খুব মিস করব। পৃথিবীতে যেমন তার চলে যাওয়ায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তেমনি আমার হৃদয়েও। মনে হচ্ছে, আমাদের অরণ্যের একটি বিশাল গাছ পড়ে গেল।
গ্লোরিয়া না থাকলে ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ও থাকত না: ক্যান্ডেস বুশনেল, লেখক
গ্লোরিয়া স্টেইনেম না থাকলে ‘সেক্স এন্ড দ্য সিটি’ তৈরি হতো না। নারীরা কী করতে পারে, কী হতে পারে এবং সবচেয়ে বড় কথা, কী ভাবতে পারে—সামাজিক নিয়ম ও পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস তিনি আমাকে এবং আরও অসংখ্য নারীকে দিয়েছেন।
নারী ও বার্ধক্যকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন: মার্জি অ্যাডাম, সংগীতশিল্পী
গ্লোরিয়া যখন ৪০ বছরে পা দেন, এক সাংবাদিক তাকে বলেছিলেন, ‘আপনাকে তো ৪০ বছরের মতো দেখায় না!’ গ্লোরিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘৪০ বছর দেখতে এমনই।’
তখন আমার বয়স ছিল ২৭। পরে যখন নিজের বয়স বললে আমাকেও একই কথা শুনতে হয়েছে, আমি গ্লোরিয়ার সেই উত্তরই ব্যবহার করেছি।
সেই একটি বাক্য পরে নারীদের মধ্যে এক ধরনের মন্ত্র হয়ে উঠেছিল। নারীর বয়স, সৌন্দর্য ও বার্ধক্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবার শক্তি দিয়েছিল তা।
কয়েক মাস আগেই আমার ৭৯তম জন্মদিনে একজন বললেন, ‘আপনাকে তো ৭৯ বছরের মতো দেখায় না!’ আমি গ্লোরিয়ার কথা মনে করে বললাম, ‘৭৯ বছর দেখতে এমনই।’
চলুন, গ্লোরিয়া স্টেইনেমের যে শক্তি আমাদের ভেতর রেখে গেছেন, সেটিকে আমরা বয়ে নিয়ে চলি।
সহমর্মিতার এক আদর্শ: মেলিসা আউফ ডের মাউর, সংগীতশিল্পী
গ্লোরিয়া চলে গেছেন। কিন্তু তার অসংখ্য কথা আমাদের জন্য রেখে গেছেন। যেমন—আমরা জয়ী হব এবং সত্য মানুষকে মুক্ত করবে, যদিও সত্য জানার আগে মানুষকে অনেক সময় ক্ষুব্ধ হতে হয়।
তবে তার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। নব্বইয়ের দশকে বসেও তিনি নিজের ঘরে নারীবাদী আলোচনার আয়োজন করতেন। তিনি বলেছিলেন, সত্যিকারের সহমর্মিতা আমরা তখনই অনুভব করি, যখন একসঙ্গে থাকি।
ডিজিটাল বিভাজনের এই সময়ে মানুষের মুখোমুখি হয়ে একত্র হওয়ার গুরুত্ব আমরা যেন ভুলে না যাই। গ্লোরিয়ার স্মরণে আমাদের আবার একে অপরের ঘরে বসতে হবে, কথা বলতে হবে, সহমর্মিতার জায়গা তৈরি করতে হবে।

ঘরের সবচেয়ে মনোযোগী মানুষটি: সারা রুল, ‘দ্য গ্লোরিয়াস’-এর সহলেখক
গ্লোরিয়ার অসাধারণ জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্লোরিয়াস’ তৈরির সময় তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল আমার। একদিন তিনি তার পরিচিত রুপালি বেল্ট ও কালো পোশাক পরে বৈঠকে এলেন। দেরি হওয়ায় অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চাইলেন।
আমি অবাক হয়েছিলাম। কারণ, তিনি দেরি করেছিলেন জাতিসংঘের একটি বৈঠক থেকে এসে। সেখানে তিনি দেশগুলোর শান্তি এবং নারীর সমান অধিকারের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলছিলেন।
কিন্তু এটাই ছিলেন গ্লোরিয়া—বিনয়ী, মজার, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সব সময় অন্য মানুষের কথা ভাবতেন।
প্রতিবার তার সঙ্গে দেখা হলে মনে হতো, ঘরের সবচেয়ে মনোযোগী মানুষটি তিনিই। তিনি এমন কোনো ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যিনি নিজের উপস্থিতি দিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে দেন। বরং তার শোনার ক্ষমতা পুরো ঘরটিকে জীবন্ত করে তুলত।
গ্লোরিয়ার জীবনের ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে আরেকটি বিষয় আমাকে বিস্মিত করেছে। তিনি শুরুতে ছিলেন একজন লেখক। পরে বক্তা হয়ে উঠেছিলেন। ষাটের দশকে সাংবাদিকতার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নারীবাদ, গর্ভপাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখতে না পারার পরিস্থিতিই তাকে বক্তৃতা ও আন্দোলনের দিকে আরও বেশি নিয়ে যায়।
এখানেই তার জীবনের একটি বড় শিক্ষা আছে—মহান নেতারা সব গুণ নিয়ে জন্মান না। সাহসী কাজ, গভীর দায়িত্ববোধ এবং কোনো একটি উদ্দেশ্যের প্রতি অটল বিশ্বাস তাদের তৈরি করে।
সৌভাগ্য যে গ্লোরিয়ার লেখা ও তার জীবন আমাদের জন্য রয়ে গেছে। এখন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তার উত্তরাধিকার আমাদের বেশি প্রয়োজন।
তিনি আমাদের সম্ভাবনার ধারণাটাই বদলে দিয়েছেন: জুডি কলিন্স, সংগীতশিল্পী
গ্লোরিয়া শুধু আলোচনার বিষয় বদলাননি। তিনি বদলে দিয়েছেন আমরা কী সম্ভব বলে মনে করি। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম নারীকে নিজের জীবনের কথা বলার ভাষা দিয়েছেন, নিজের জীবন দাবি করার সাহস দিয়েছেন।
তিনি আমাকে ‘ ব্রেড এন্ড রোজেস’ গানের কথাও মনে করিয়ে দেন—আমরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য লড়ি না; মর্যাদার জন্যও লড়ি। আমাদের প্রয়োজনের রুটি যেমন চাই, তেমনি চাই আমাদের প্রাপ্য গোলাপও।
তিনি ছিলেন আমার ওয়ান্ডার ওম্যান: লিন্ডা কার্টার, অভিনেত্রী
গ্লোরিয়া ছিলেন সাহসী, সুন্দর এবং নারীত্বের শক্তিতে পূর্ণ। তিনি ছিলেন আমার ওয়ান্ডার ওম্যান।
---
গ্লোরিয়া স্টেইনেমের জীবন তাই শুধু একটি ব্যক্তির জীবনের গল্প নয়। এটি এমন এক সময়ের ইতিহাস, যখন নারীরা নিজেদের অধিকার, কণ্ঠস্বর ও স্বাধীনতার জন্য নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন। তিনি সেই প্রশ্নকে রাস্তায়, সংবাদপত্রে, সভায় এবং মানুষের জীবনে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তার চলে যাওয়ায় একটি কণ্ঠ থেমে গেছে। কিন্তু তার লেখা, তার আন্দোলন এবং তার দেখানো সাহস এখনো কথা বলে চলেছে। নতুন প্রজন্মের নারীরা যখন নিজের অধিকারের জন্য দাঁড়াবে, তখন কোথাও না কোথাও গ্লোরিয়া স্টেইনেমের সেই পুরোনো আহ্বান আবার শোনা যাবে—‘নিজের জায়গায় দাঁড়াও, নিজের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বাস করো, আর পৃথিবীকে একটু ন্যায়ভিত্তিক করে যাও।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









