ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় আবারও ধাক্কা লেগেছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ওমানের নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এতে অদূর ভবিষ্যতে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রবিবার রাতে ওমান জানায়, ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি জানান, বৈঠকটি পরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংলাপ চালিয়ে যেতে ওমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তির প্রস্তাব উপস্থাপন করার কথা ছিল।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। আন্তর্জাতিক এই জলপথে যুদ্ধের আগে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করত। তবে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো চুক্তি হলে তা ভবিষ্যতে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি।
হরমুজ প্রণালির ওপর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রভাব ও দর-কষাকষির ক্ষমতাও বাড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। রবিবার একটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় সেটিতে একটি বস্তু আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকেরা জাহাজ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। সোমবার সকালে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩৫ ডলারে উঠেছিল। পরে তা ১০৭ ডলারেরও বেশি হয়। একই সময়ে সৌদি আরবে নতুন করে হুথি হামলা এবং উপসাগরে ইরানের জাহাজে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









