সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ভ্রমণের আগে বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় সৌদি আরবকে ‘তৃতীয় স্তর’-এ রাখা হয়েছে, যার অর্থ দেশটিতে যাওয়ার আগে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় কঠোর আইন সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বিশেষ করে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকায় মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই সৌদি আরবের দিকে ইরান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক জোন এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, সৌদি আরবে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা কার্যক্রম যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমালোচনামূলক, আপত্তিকর কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বলে মনে হয়, তবে ব্যবহারকারীর গ্রেপ্তারের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে—এমন হুশিয়ারিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ইয়েমেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সতর্কতা অর্থাৎ ‘চতুর্থ স্তর’ বহাল রয়েছে। দেশটিতে তীব্র সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ প্রবণতা, অপহরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্থলমাইনের আশঙ্কার কারণে মার্কিন নাগরিকদের যেকোনো মূল্যে দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









