মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত ছিল। এই পুরস্কার সাবেক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার ‘সবসময় বিতর্কিত’ হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাতে নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক সমাবেশ শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
পোস্টে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ আরও দুটি সংঘাতের অবসান ঘটাতে অথবা বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছেন। তবে তার এসব দাবির যথার্থতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রতিনিধিত্বে দেশটির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি নরওয়ের জন্য এমন এক কলঙ্ক, যা কখনো ভোলার নয়।”
তার অভিযোগ, গণতন্ত্রবিরোধী ও সভ্যতার শত্রু কয়েকজন উগ্র মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মর্যাদা চিরতরে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজস্ব আইনচর্চা শুরু করা প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম।
সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেন পিল্লাই। ওই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইসরাইল সরকার।
ট্রাম্প তার পোস্টে পিল্লাইয়ের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তোলেন। তার ভাষায়, পিল্লাই “স্পষ্টতই ইসরায়েলকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে এই পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প লেখেন, “নোবেল পুরস্কার এমন একজন উদারপন্থী ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে, যিনি জাতিসংঘে কাজ করেন এবং যার নাম আগে কেউ কখনো শোনেনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, যেসব যুদ্ধের অবসান তিনি ঘটিয়েছেন, সেগুলোর কোনোটিতেই জাতিসংঘের সঙ্গে তার কথা বলতে হয়নি।
তার অভিযোগ, জাতিসংঘ কোনো সহায়তাই করেনি।
এদিকে, চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর জানার মুহূর্তের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে পিল্লাইকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, তিনি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।
এর আগে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ট্রাম্পকে নিজের পুরস্কারটি উপহার দেন। দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প।
তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানকারী নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তখন স্পষ্ট করে জানায়, মাচাদোর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করলেও ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটির অধিকারী হননি।
কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছিল, পদক ও সনদ হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া দৃশ্যমান প্রতীক। কিন্তু পুরস্কারের মূল মর্যাদা ও স্বীকৃতি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির মনোনীত বিজয়ীর সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









