রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে ২০২২ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিচার শুরু করতে যাচ্ছে জার্মানি। জার্মানির কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালিত নাশকতার পরিকল্পনায় ভূমিকা ছিল সেরহি কে. নামের ওই ব্যক্তির।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হামবুর্গের একটি আদালতে মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাল্টিক সাগরের তলদেশে থাকা নর্ড স্ট্রিম ও নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাইপলাইন দুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জার্মানির তদন্তকারীরা বলছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা জাল ইউক্রেনীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে জার্মানিতে প্রবেশ করেন এবং ‘অ্যান্ড্রোমিডা’ নামের একটি ইয়ট ভাড়া করেন। ওই নৌযানে বিস্ফোরক পদার্থের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ডেনমার্কের বর্নহোম দ্বীপের কাছে পাইপলাইনে বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেরহি কে. তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নাশকতায় কিয়েভের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
মামলার আরেক সন্দেহভাজন ভ্লাদিমির জেড. বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ায় আটক রয়েছেন এবং জার্মানিতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছেন।

কী ঘটেছিল নর্ড স্ট্রিমে
নর্ড স্ট্রিম হলো বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে রাশিয়া ও জার্মানিকে যুক্ত করা প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। নর্ড স্ট্রিম ও নর্ড স্ট্রিম-২-এর চারটি পাইপলাইনের সম্মিলিত বার্ষিক গ্যাস পরিবহন সক্ষমতা ছিল ১১ হাজার কোটি ঘনমিটার।
প্রথম নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। পরের বছর এটি চালু করা হয়। অন্যদিকে, নর্ড স্ট্রিম-২-এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে পাইপলাইনটি কখনো বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্ক ও সুইডেনের জলসীমায় পাইপলাইনের কয়েকটি অংশে বিস্ফোরণ ও গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত হয়। পরে পাইপলাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নর্ড স্ট্রিম এজি উভয় ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বিস্ফোরণের পর পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর গ্যাস বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়। ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে তদন্ত করতে শুরু করে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের পথ থাকা দেশগুলো এই ঘটনার ফলে লাভবান হয়েছে। তিনি এ ক্ষেত্রে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কথাও উল্লেখ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









