চীনে সেপ্টেম্বরে নতুন ব্যাংকঋণ বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে পড়ায় সরকার আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক সময়ের ঋণ বিতরণ বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে। তবে ঋণপ্রবাহ বাড়লেও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটির ব্যাংকগুলো নতুন করে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি ইউয়ান ঋণ দিয়েছে, যা প্রায় ১৬ হাজার ১৩৭ কোটি ডলারের সমান। আগস্টে নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০০ কোটি ইউয়ান। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা সেপ্টেম্বরে ৯৭ হাজার ৫০০ কোটি ইউয়ান ঋণের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। গত বছরের একই মাসে নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি ইউয়ান।
সাধারণত প্রান্তিক সময়ের শেষে অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চীনের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক ঋণবৃদ্ধিকে অর্থনীতিতে সরকারের প্রণোদনার প্রভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক ঋণপ্রবাহের দুর্বলতা বলছে, অর্থনীতিতে চাহিদা এখনো জোরালো হয়নি। চীনে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নতুন ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫২ হাজার কোটি ইউয়ান। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি ইউয়ান।
সেপ্টেম্বরে এক বছর আগের তুলনায় দেশটির বকেয়া ইউয়ান ঋণ বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি রেকর্ডে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। আগস্টে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অর্থনীতিকে চাঙা করতে সুদহার কমানো ও আবাসনঋণে ভর্তুকিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করে চীন সরকার। তবে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর এসব উদ্যোগ সামগ্রিক ঋণচাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ও ভোক্তাদের আস্থার ঘাটতি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

চলতি বছরে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বেইজিং। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। দুর্বল বিনিয়োগ ও পারিবারিক ভোগব্যয়ের বিপরীতে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের শক্তিশালী অবস্থান অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে চীনের বিস্তৃত মুদ্রা সরবরাহের পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগস্টে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, সংকীর্ণ মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি আগস্টের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
চীনের তৃতীয় প্রান্তিকের মোট দেশজ উৎপাদনের তথ্য প্রকাশ করা হবে ১৯ অক্টোবর। অর্থনীতির গতি স্থিতিশীল হচ্ছে কি না, সেই ইঙ্গিত পেতে এখন ওই পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকেরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









