১৯৪৮ পেরুর রাজধানী লিমা থেকে স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যপত্রিকা মার দেল সুর প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন অরেলিও মিরো কেসাদা সোসা ইতিহাস, দর্শন, কবিতা, সাহিত্যসমালোচনা ও বিশ্বসংস্কৃতি নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশের পাশাপাশি পত্রিকাটি পেরুর নবীন কবি-লেখকদেরও জায়গা করে দিয়েছিল। হোসে মারিয়া আরগেদাস, ব্লাঙ্কা ভারেলা ও হোর্হে এদুয়ার্দো আইলসনের মতো লেখকদের রচনা পত্রিকাটিকে সমৃদ্ধ করেছিল। ১৯৫১ সালে এই পত্রিকাতেই অক্টাভিও পাসের ‘আ ডিফিকাল্ট লার্নিং প্রসেস’ (A Difficult Learning Process) শীর্ষক রচনাটি প্রকাশিত হয়। পাসের লেখাটিতে পরাবাস্তববাদী গদ্যের প্রভাব স্পষ্ট, যেমন দেখা যায় একই বছর প্রকাশিত তার ‘আগুইলা ও সোল?’ গ্রন্থেও। ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে গড়ে ওঠা এক দুঃখবাদী-যন্ত্রণাভোগী সম্পর্কের সঙ্গে কাব্যিক ভাষার সংমিশ্রণ রচনাটিকে কিছুটা ‘লত্রেয়ামঁ’র কথা মনে করিয়ে দেয়; এমনকি ভার্জিলিও পিনিয়েরার ‘লা কার্নে দে রেনে’ উপন্যাসের কথাও পড়তে পড়তে মনে আসতে পারে। পত্রিকাটির এই প্রকাশনা পাসের কথাসাহিত্যিক সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের পরিচয় দেয়।
দৈনিক এদিন অনলাইন ‘আ ডিফিকাল্ট লার্নিং প্রসেস’ রচনাটি বাংলাভাষী ও অক্টাভিও পাস-প্রেমী পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করল।
আমি বেঁচে ছিলাম তাড়না আর অনুশোচনার মাঝখানে, এগিয়ে যাওয়া আর পিছিয়ে আসার দোলাচলে। কী ভয়ংকর লড়াই! ইচ্ছা আর বিবেচনা, ডানা আর সিসা আমাকে টানত সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে। টান এত প্রবল ছিল যে শেষ পর্যন্ত আমি নড়াচড়ার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছিলাম। বছরের পর বছর লাগাম কামড়ে পড়ে ছিলাম, যেন উৎসের পাথরে বাঁধা এক দুরন্ত নদী। ফেনা তুলেছি, ক্ষিপ্ত হয়ে পা ছুড়েছি, পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছি; গলার শিরা-উপশিরা ফুলে উঠেছে। কিন্তু কিছুতেই লাগাম আলগা হয়নি। শেষে ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছি। চাবুক আর গোড়ালির কাঁটা আমাকে আবার লাফিয়ে উঠতে বাধ্য করেছে। চলো, এগোও!
সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা, আমাকে বেঁধে রেখেছিলাম আমি নিজেই, নিজেরই সঙ্গে। নিজের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারছিলাম না, অথচ নিজের মধ্যে বাস করাও অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। কাঁটা আমাকে সামনে ঠেলত, লাগাম পেছনে টানত। আমার পেট হয়ে উঠেছিল এক টুকরো লাল মাংস, অধৈর্যের দাঁতে যা অনবরত কাটা আর পেষা হচ্ছে। মুখের ওপর জমে ছিল পাথর হয়ে যাওয়া এক বিকৃত হাসি, ফেনা আর জমাট রক্তের স্তূপ। এই স্থির অথচ উত্তাল টানাপোড়েনে আমিই ছিলাম দড়ি, আমিই পাথর; আমিই চাবুক, আমিই তার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শরীর। নিজের ভেতরে বন্দী হয়ে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতাম। একটু নড়লেই মার, না নড়লেও মার। ভয় আর জ্বরের মাঝখানে কাঁপতে কাঁপতে পড়ে থাকতাম, যেন শরীরটা আমার নয়, অন্য কারও, যে আমাকে দিয়ে নিজের কোনো নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালাচ্ছে।

দুই পাশে ময়লা জমতে লাগল। চুল এত লম্বা হয়ে উঠল যে একসময় তার জটপাকানো জঙ্গলে আমি প্রায় চাপা পড়ে গেলাম। সেখানে অগণিত ক্ষুদ্র প্রাণী এসে আস্তানা গাড়ল—ঝগড়াটে, ক্ষুধার্ত, একে অন্যকে ধ্বংস করতে সদা প্রস্তুত। নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ না করলে তারা আমাকে খেতে শুরু করত। আমার শরীরই ছিল তাদের যুদ্ধক্ষেত্র, আমার মাংস তাদের লুণ্ঠিত সম্পদ। কানে ঢুকে পড়ত, বগলে অবরোধ গড়ত, কুঁচকিতে আশ্রয় নিত, চোখের পাতায় তাণ্ডব চালাত। ডান চোখের ভেতর গর্ত খুঁড়ত, কপাল কালো করে দিত। শেষে তারা আমাকে ঢেকে ফেলল বাদামি এক চাদরে—যে চাদর জীবন্ত, অবিরাম নড়ছে। পায়ের নখও বাড়তে লাগল। ইঁদুরেরা এসে যদি সেগুলো কেটে না খেত, কে জানে কত দূর পর্যন্ত গজিয়ে উঠত! তারা নখের সঙ্গে আমার কয়েকটি আঙুলও খেয়ে ফেলেছিল। অনেক পরে ক্ষতিগুলো খেয়াল করলাম। তখন আমি নিজের উন্মত্ত চিন্তায় এতটাই ডুবে ছিলাম যে শরীরের হিসাব রাখার অবকাশ ছিল না। মাঝে মাঝে মুখে তুলে নিতাম এক টুকরো কাঁচা মাংস। আশপাশে হাতের নাগালে যে জীবন্ত প্রাণী পাওয়া যেত, তার শরীর থেকে ছিঁড়ে নিতাম এক টুকরো। মুখ খুলতেও কষ্ট হতো, এত পোকামাকড় সেখানে ভিড় করে থাকত।
এই জীবনযাপন কোনো সুস্থ, সবল শরীরকেও শেষ করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমার শরীর তেমন সবল ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ব্যায়ামের চেয়ে চিন্তাভাবনাকে বেশি পছন্দ করতাম। তবে শেষ পর্যন্ত, সম্ভবত আমার শরীর থেকে বেরোনো দুর্গন্ধের টানে, প্রতিবেশীরা আমাকে খুঁজে পেল। নিজেরা ছুঁতে সাহস করল না। খবর পাঠাল আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছে। বসল পারিবারিক সভা। আমাকে বাঁধনমুক্ত করা হলো না; বরং দায়িত্ব দেওয়া হলো একজন শিক্ষকের হাতে। পরিবারের সিদ্ধান্ত, তিনি আমাকে শেখাবেন স্বাধীনতার কলাকৌশল, তার শিল্প ও বিজ্ঞান। শুরু হলো কঠোর প্রশিক্ষণ।
শিক্ষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা গভীর, সম্মোহনী কণ্ঠে আমাকে পাঠ দিতেন। নির্দিষ্ট বিরতিতে চাবুক বাতাসে আঁকত অদৃশ্য আঁকাবাঁকা রেখা, আমার চামড়ার ওপর ফুটিয়ে তুলত লম্বা, সরু ইংরেজি এসের মতো দাগ। জিভ বেরিয়ে থাকত, চোখ দুটো বুনো, মাথা নিচু, পেশি কাঁপছে—এই অবস্থায় আমি ছুটতাম একটানা। শেখার জন্য মরিয়া হয়ে গোল গোল ঘুরতাম, আগুনের বৃত্তের ভেতর দিয়ে লাফ দিতাম, কাঠের উঁচু ব্লকের ওপর উঠতাম, একটির পর একটি টপকাতাম।
দৃশ্যটা নিশ্চয়ই দেখার মতো ছিল! শিক্ষক এমন মার্জিত ভঙ্গিতে চাবুক চালাতেন যে মনে হতো, এও একধরনের শিল্প। তার সংক্ষিপ্ত নির্দেশের সঙ্গে মিলিয়ে আমি শরীর চালাতাম; প্রতিটি আদেশের শেষে চাবুকের শব্দ যেন দাঁড়ি টেনে দিত। আজও আমাদের সেই বিশ্বাস আর উৎসাহের কথা মনে পড়লে মনটা কেমন করে ওঠে। কী লুকাব! আমি আমার শিক্ষককে নিয়ে গর্বিত ছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, গোপনে তিনিও আমাকে নিয়ে গর্ব করতেন। আমার শিক্ষক নিখুঁত কাজ ভালোবাসতেন। কিছুতেই সন্তুষ্ট হতেন না। সব সময় আরও বেশি চাইতেন। তার পদ্ধতির চরম কঠোরতা অন্যের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে; কিন্তু আমি শুধু তা উপভোগই করতাম না, একে সম্মান বলে মনে করতাম।

তার নিরলস নজরদারির অর্থ আমি বুঝতাম। নীরব, নিবেদিত আনুগত্য দিয়ে তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেত সংযত অথচ সূক্ষ্ম ভঙ্গিতে, বিনয়ী অথচ আন্তরিক আচরণে। শরীর রক্তাক্ত, চোখে কৃতজ্ঞতার জল—আমি দিনরাত ছুটতাম, চাবুক আর চিৎকারের তালে তালে। কখনো ক্লান্তি ব্যথাকেও হার মানাত। আমি মাটিতে পড়ে যেতাম। তখন শিক্ষক ধুলোমাখা বাতাসে চাবুক ঘুরিয়ে আমার কাছে এগিয়ে আসতেন। তাঁর কণ্ঠে থাকত স্নেহের আভাস।
‘আর একবার চেষ্টা করো। আর একবার, তাহলেই তুমি স্বাধীন।’
এই বলে তিনি ছোট্ট একটা ছুরি বের করে আমার পাঁজরে খোঁচা দিতেন। ক্ষতের যন্ত্রণা আর তাঁর উৎসাহের কথা আমাকে আবার লাফিয়ে তুলত। দ্বিগুণ উদ্যমে পাঠ চালিয়ে যেতাম। প্রতিটি চক্করে, প্রতিটি ডিগবাজিতে নেশাগ্রস্তের মতো মনে মনে বলতাম, ‘আর একটু, আর একটু। শিগগিরই আমি স্বাধীন হব।’
তারপর সত্যিই একদিন তা ঘটল। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই আমাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো। চমকে দেওয়া, এমনকি নিজের কথার সঙ্গে নিজেই বিরোধিতা করা—এসবও ছিল শিক্ষকের পদ্ধতির অংশ। হঠাৎ দেখি, আমি সমাজের মধ্যে এসে পড়েছি। আলো আর মানুষের ভিড়ে প্রথমে চোখ ধাঁধিয়ে গেল। অকারণ, হাস্যকর এক ভয় আমাকে পেয়ে বসল। সৌভাগ্যক্রমে শিক্ষক কাছেই ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি আমাকে সাহস দিচ্ছিল, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছিল। তার কণ্ঠস্বর শুনলাম—স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি প্রাণবন্ত। তারপর শুনলাম সেই পরিচিত, প্রফুল্ল চাবুকের শব্দ। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিলাম। স্নায়ুর উত্তেজনা কমে এল।
এবার শুরু করলাম এত দিন ধরে যত্ন করে শেখানো কসরতগুলো। প্রথমে একটু সংকোচ নিয়ে, তারপর ক্রমশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লাফ দিলাম, নাচলাম, মাথা নোয়ালাম, হাসলাম, আবার লাফ দিলাম। সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাল। আমিও গভীর আবেগে তাদের অভিবাদন জানালাম। সাহস বেড়ে যাওয়ায় যথাস্থানে বলার মতো তিন-চারটি বাক্যও বলে ফেললাম। আগে থেকেই সেগুলো যত্ন করে মুখস্থ করেছিলাম, কিন্তু এমন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললাম যেন কথাগুলো এইমাত্র মাথায় এসেছে। অভাবনীয় সাফল্য পেলাম। কয়েকজন তরুণীর চোখে আমার প্রতি একধরনের মমতাও দেখতে পেলাম। প্রশংসা বাড়তে লাগল। আমিও বারবার ধন্যবাদ জানাতে লাগলাম। তারা হাততালি দিল। আবেগে উদ্বেল হয়ে আমি এবার সামনের দিকে ছুটলাম। দুহাত প্রসারিত করে লাফিয়ে পেরিয়ে গেলাম একটা বাধা—এতক্ষণ বলা হয়নি, সেখানে একটা বাধা ছিল। আমাকে এগিয়ে আসতে দেখে কাছের লোকেরা পিছিয়ে গেল। আমি থামতে চাইলাম। অস্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিলাম, গুরুতর একটা অভদ্রতা করে ফেলেছি। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
একটি মিষ্টি চেহারার ছোট মেয়ের কাছে যখন পৌঁছে গেছি, শিক্ষক তখন রাগে ও লজ্জায় লাল। হাতে তার একটি লোহার দণ্ড, যার অগ্রভাগ আগুনে তপ্ত হয়ে সাদা হয়ে উঠেছে। তিনি আমাকে শাসন করলেন। দণ্ডের ছ্যাঁকায় আমি চিৎকার করে উঠলাম। যন্ত্রণায়, বিস্ময়ে ফিরে তাকালাম তার দিকে। শিক্ষক রিভলভার বের করে শূন্যে গুলি ছুড়লেন। চারদিকে যখন হইচই, তখন হঠাৎ আমার মাথায় আলো জ্বলে উঠল। আমি বুঝতে পারলাম, ভুলটা কোথায় হয়েছে। এক মুহূর্ত পরেই ক্ষমা চাইতে চাইতে সরে এলাম। দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পেছনে ক্ষীণ গুঞ্জন শুনতে পেলাম। পা দুর্বল হয়ে আসছিল, নাড়ি কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি জ্ঞান হারাব। যন্ত্রণা চেপে রেখে, বিভ্রান্ত ও হতবাক অবস্থায় সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলাম।
নিজের ঘরে ফিরে বিছানায় লুটিয়ে পড়লাম। বাতি নিভিয়ে অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে ফিরে দেখলাম আমার এত দিনের জীবন—সেই প্রথম মোহ, শিক্ষকের স্নেহময় হাসি, প্রথম সাফল্য, অহংকারে আমার নির্বোধ আত্মহারা হয়ে পড়া, তারপর এই চূড়ান্ত অপমান। মনে পড়ল আমাদের সাধনার কথা। নির্ঘুম রাত, শরীরের ক্ষত, চাবুকের অবিরাম শব্দ, দমবন্ধ করা ধুলোর ভেতর দিয়ে ছুটে চলা।
সবই বৃথা! আমি নিজেকে বললাম, স্বাধীনতার জন্য আমি তৈরি নই। তারপর অনুভব করলাম, আমার সত্তার কোনো অন্ধকার অঞ্চল থেকে চাপা, গোপন এক কান্না উঠে আসছে চোখের দিকে। কিন্তু আমি কাঁদতে পারলাম না। সেই অদৃশ্য অশ্রু ভেতর থেকে আমাকে পুড়িয়ে দিতে লাগল। নোনা এক রেখা টেনে তারা নেমে গেল পেটের গভীরে, অন্ত্র আর নাড়িভুঁড়ির মধ্যে। তারপর গলার কাছে এসে জমাট বাঁধল, শ্বাসরোধী এক মেঘ হয়ে আমাকে চেপে ধরল।

এ ছিল শুকনো কান্না। অথচ কান্না কত ভালো! কান্না জমে থাকা ভার হালকা করে, ভেতরের চাপ বের করে দেয়। হঠাৎ ব্যথা থেমে যায়, উৎকণ্ঠা মিলিয়ে যায়, সবকিছু যেন দূরে সরে যেতে থাকে। মানুষ তখন শূন্য হয়ে যায়—একেবারে শূন্য, হালকা। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে গভীর, ভারী ঘুমে; কালো, খনিজের মতো নিশ্চল এক ঘুমে, যে ঘুমের পরেই আসে প্রথম জেগে ওঠা। কিন্তু আমি জেগে ছিলাম। কাঁদতে পারছিলাম না।
বুঝতে পারলাম, শিশুর মতো, পাথরের মতো, হতভাগ্য মানুষের মতো যে ঘুম—সে ঘুম আর কখনো আমার হবে না।অবশেষে আমি জেগে উঠেছি। এবার চিরদিনের জন্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









