ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক লুটপাট ও সহিংসতার পর সংকট মোকাবিলায় সোমবার জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবারের সংঘর্ষে প্রায় দেড় হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য, তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও জনসেবার সুযোগ কমে যাওয়ার প্রতিবাদে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেন। অধিকাংশ বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণ থাকলেও মুখোশধারী কিছু কর্মী ও ভাঙচুরকারীর তৎপরতায় পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে; কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটাও করা হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আশ্বাস দেন। কিন্তু বিরোধীদের সমালোচনা, তাঁর ভাষণে পরিস্থিতি মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটির মহাসচিব সোফি বেনে অভিযোগ করেছেন, ম্যাক্রোঁ জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ এবং জনসেবার অবনতির মতো মূল সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে সহিংসতার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন।

সহিংসতার ঘটনায় ফ্রান্সের গভীর রাজনৈতিক বিভাজনও সামনে এসেছে। ম্যাক্রোঁ ও লেকর্নু দায়ী করেছেন উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের। বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশো সরকারের অযোগ্যতার অভিযোগ তুলেছেন। আর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেনের ভাষায়, ম্যাক্রোঁর প্রশাসন ক্লান্ত ও দিশাহীন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ কমাতে ব্যয় সংকোচনের চাপ রয়েছে সরকারের ওপর। কিন্তু জনসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কাটছাঁট করলে জনরোষ আরও বাড়তে পারে। ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আপাতত কিছুটা স্বস্তির আশা করছে সরকার। তবে আগামী ৫ নভেম্বর শ্রমিক ইউনিয়ন ও ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের বিভিন্ন অংশ বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
ফ্রান্সের সংকট তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার অবনতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা। এসব সমস্যার সমাধান না করে কেবল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে অস্থিরতা আবারও ফিরে আসতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









