বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ভার্চুয়াল মুদ্রা চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। শনিবার সংস্থাটি এ অভিযোগ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি এ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা।
এদিকে সাইবার হামলায় চুরি যাওয়া অর্থের ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পূরণ করতে নিজস্ব তহবিল থেকে টোকেন কিনেছে তারা।
দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের হিসাবে বাইন্যান্স বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম। শুক্রবার এ সাইবার হামলার খবর প্রকাশের পর অধিকাংশ প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বেসরকারি তদন্তকারী ও বিশ্লেষকদের আগের সন্দেহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এফবিআই। সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি গোষ্ঠী এ সাইবার হামলার পেছনে রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির জন্যও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল।
এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবরের দিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী।’’
এফবিআই আরও জানায়, ‘ট্রেডারট্রেইটর’ গোষ্ঠীর সদস্যরা চুরি করা সম্পদ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করছে বলে তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। পরে বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক বিনিময় সেবা ব্যবহার করে এসব সম্পদ আরও বেশি অর্থ পাচারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
এ ধরনের চুরি করা সম্পদ পাচারে ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীর ব্যবহৃত ঠিকানা থেকে আসা বা ওই ঠিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন বন্ধ করতে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।
তবে সাইবার হামলায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমি উদ্বিগ্ন নই। আমরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। এটি উত্তর কোরিয়া করেছে কি না, তা আমরা জানি না।’’
এদিকে, বাইন্যান্স শনিবার জানিয়েছে, সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ রেখেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি লেখে, ‘‘আমাদের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, বাইন্যান্স তার পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ দেবে। চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পূরণ করতে নিজস্ব অর্থে টোকেন কেনা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ টোকেনের তারল্য তুলনামূলক কম। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় পরিমাণে এসব টোকেন সংগ্রহ করতে আরও সময় লাগতে পারে।’’
সাইবার হামলার পর বাইন্যান্স গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রবিবার থেকে অর্থ উত্তোলন আবার চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ক্রিপ্টোগ্রাফি ও তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিন্যান্সে এ হামলার ঘটনা ঘটল।
হামলার খবর প্রকাশের পর বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ইথেরিয়ামের দাম কমে প্রায় ৬ শতাংশ। আর বাইন্যান্সের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি বিএনবির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।
শুক্রবার বাইন্যান্স জানায়, একাধিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চালানো ‘জটিল হামলা’ মোকাবিলায় তারা কাজ করছে।
এ হামলার ব্যাপকতা উত্তর কোরিয়ার অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









