ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
রবিবার (১ নভেম্বর) দিনভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা যোগ দিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা, মৌচাকের পুলিশ বক্স এবং বিভিন্ন কারখানার ফটক ভাঙচুর করা হয়। কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে এবং আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপ্ত টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও কালের কণ্ঠের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি মাহবুব হাসান মেহেদী আহত হন। তাঁদের মারধর করে ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সফিপুর, মৌচাক ও আশপাশের এলাকার অন্তত ৮ থেকে ১০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় শিল্প পুলিশের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার একই দাবিতে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় শ্রমিক-পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবিতে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
শ্রমিক নেতা শাকিল ও শ্রমিক নেত্রী স্মৃতি জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা আসায় আপাতত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।
তবে শ্রমিক নেতাদের আহ্বানের পর শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ও কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম কতটা স্বাভাবিক হয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









