যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের উপদেষ্টা হামিদ রেজা মুকাদ্দামফার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে মার্কিন জনগণের মতামত যাচাইয়ের একটি গণভোটে পরিণত হয়েছে।
মুকাদ্দামফার বলেন, ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ইরানের নীতিনির্ধারণে বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের বড় ধরনের বিপর্যয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল দেশটির জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তার দাবি, এই ফলাফল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিশালী অবস্থানেরও প্রমাণ।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, ইরানের সামরিক অভিযানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন তিনি। মুকাদ্দামফারের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কারণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দূরে অবস্থান করছে। তবে এসব সামরিক দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
বক্তব্যে তিনি ইরানের সাবেক সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে দেশটি নতুন সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ অন্য কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলে তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ নির্বাচনের ফলাফলকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









