ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল’ সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সোমালিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের জন্য ইসরায়েল একটি সুপরিকল্পিত নীলনকশা তৈরি করেছে এ বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সোমালিল্যান্ডকে দেওয়া কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। এই পদক্ষেপকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহম্মাদ দাবি করেন, ওই স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের তিনটি শর্ত মেনে নিয়েছে। শর্তগুলো হলো—ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে সম্মতি, এডেন উপসাগরীয় উপকূলে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়া।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তারা স্পষ্টভাবে না বললেও, ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।
সোমালিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ওয়াদানি পার্টির চেয়ারম্যান হারসি আলী হাজি হাসান বলেন,“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কয়েক দশক ধরে অবহেলিত হওয়ার পর এখন আমাদের অস্তিত্বের স্বীকৃতির প্রশ্নে যে দেশ এগিয়ে আসবে, তাকে স্বাগত জানানো আমাদের জন্য অনিবার্য।”
ফিলিস্তিনি পুনর্বাসন ও আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র- আল-জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









